যশোর শিক্ষা বোর্ডে নাম সংশোধনের আবেদন ৩২ হাজার : হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা

0

তহীদ মনি॥ যশোর শিক্ষা বোর্ডে নাম সংশোধনের অনলাইন আবেদন ৩১ হাজার ছড়িয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সাথে বানান পদবী ও এ জাতীয় বিষয় মেলাতে যেয়ে আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন অনলাইনে ৭০ থেকে দেড়শ আবেদন জমা পড়ছে। এ কাজ করতে গিয়ে অ্যাকাডেমিক বিভাগ ও প্রমাণপত্র বিভাগকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও আবেদনকারীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নাম সংশোধনের আবেদন জমা পড়ছে অনেক। এক হাজার টাকা নির্ধারিত ফি’র অনলাইন চার্জ ও ভ্যাট ট্যাক্স জমা সাপেক্ষে আবেদন জমা পড়ছে। আবেদন জমা দিতে কোনো প্রার্থীকে সরাসরি বোর্ডে যেতে হয় না। অনলাইনে আবেদনের পর নির্দিষ্ট ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হলে শেষ গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয় নাম সংশোধন হয়েছে। না কি হয়নি। তবে, এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে, অনেককেই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার এক আত্মীয়ের কাজ সম্পন্ন করতে ২ মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি টেবিলে ঘুরতে হয়েছে। তার মতে, কার্যক্রম শেষ করার জন্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলে এসব সমস্যায় কাউকে পড়তে হতো না।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র আরো জানায়, অতি সম্প্রতি বিধান অনুযায়ী শিশুকে স্কুলে ভর্তি করতে ইউনিক আইডির প্রয়োজনে অনলাইন জন্মনিবন্ধন করা লাগছে। শিশুর জন্ম নিবন্ধন নিতে গেলে পিতা-মাতার ও অনলাইন জন্মনিবন্ধন লাগছে। বিড়ম্বনাটা এখান থেকে শুরু। সূত্র মতে শিক্ষা বোর্ড জেএসসি, এসএসসি বা এইচএসসি যে কোনো সার্টিফিকেট তৈরিতে নাম পেয়ে থাকে স্কুল থেকে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুসারে পিইসি বা জেএসসি চালুর আগে শিক্ষার্থীরা এই নাম পেতো নবম শ্রেণিতে ওঠার পর রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে। অষ্টম শ্রেণি থেকে নাম নিবন্ধন করা হয়। এক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে নিবন্ধনপত্রে শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে নাম পিতা-মাতার নাম লিখবে। পরে তাদের দিয়ে আবার চেক করিয়ে পূরণকৃত সেই নিবন্ধন ফরমটি গ্রহণ করবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের অ্যাকাডেমিক বিভাগের দাবি, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে সে দায়িত্ব পালন করে না। এ কারণে পদবি আগে পিছে হয়, উচ্চারণগত কারণে কিছু ত্রুটি হয়। আবার বর্তমানে এনআইডি সাথে নামের বানানসহ সম্পূর্ণ মেলানোটা বাধ্যতামূলক হয়েছে। এনআইডি করার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীর দুর্বলতা, তথ্য প্রদানকারীর ব্যস্ততা, ডাটা এন্ট্রি, অপারেটরের ভুল নানাবিধ কারণে এনআইডিতেও ভুল রয়েছে, প্রতিদিন যশোর জেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে নাম পিতা-মাতার নাম পরিবর্তনের বা সংশোধনের আবেদনপত্র দেখলে এর সত্যতা মেলে। তাছাড়া পাসপোর্টের নামের সাথে এনআইডি’র নামের বানান বা পদবিগত ত্রুটিও আর একটা বাধা। এসব সমস্যা মেটাতে শিক্ষা বোর্ড থেকে নাম সংশোধন করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ইউনিক আইডি ও শিশুদের ভর্তির জন্যেও সব দিকের সামঞ্জস্য মেলাতে নাম সংশোধনের আবেদন বেশি হচ্ছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল খালেক সরকার একটি পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখ পর্যন্ত আবেদন ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সমস্যার সম্মুখিন ৩০ হাজারের মতো। তিনি বলেন, বর্তমানে তাকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত অনলাইনের এ আবেদন বিষয়ে সমাধান দিতে হচ্ছে। এত চাপ বোর্ডে আগে কখনো হয়নি। এক সময় নাম সংশোধনের জন্যে আবেদন করা হলে ফাইল প্রস্তুত করে এক বা দুই মাসের একটি মিটিংয়ে সমস্যার সমাধান হতো। কোনো মিটিংয়ে দু’শর বেশি সমস্যার সমাধান দিতে হয়নি। কিন্তু বর্তমানে পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন। অনলাইনে আবেদন জমা হওয়ার পর অ্যাকাডেমিক বিভাগে তিনটি স্তর পার হরতে হয় আবেদনটির। এরপর এক পর্যায়ে সচিবের কাছে যায় আবেদনটি। তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খু বিবেচনা করে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠান। সেখানে অনুমোদন পেলে আবেদনপত্রটি সিস্টেম অ্যানালিস্টের কাছে সেখান থেকে প্রমাণপত্র বিভাগে। প্রমাণপত্র বিভাগ সংশ্লিষ্ট নথিটি ঠিক করে। এরপর আবেদনকারীকে জানানো হয় তিনি পুরাতন নথিটি কাঁটাছেড়া করবেন না-কি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ফ্রেস কপি চান। তিনি যেমনটি চাইবেন, তেমনটি করা হয়। শিক্ষা বোর্ড সচিব জানান, এগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং প্রক্রিয়াগত কারণেই কিছুটা বিলম্ব হয়। তার মতে, সমস্যা অন্যত্র, যদি কোনো আবেদন জটিল হয় বা নামের মেজর অংশে পরিবর্তন থাকে তবে অনলাইনে সে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না। এ জাতীয় ক্ষেত্রে সার্বিক বিষয়টি ব্যাখ্যা ও নোট সাপেক্ষে নাম সংশোধন কমিটিতে পাঠাতে হয়। ওই মিটিং সাধারণ দু’মাসে একটি হয়। করোনার সময়ে তাও নিয়মিত হয়নি। নাম সংশোধনের মিটিংয়ে কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সেটি আর সংশোধন হয় না। গৃহীত হলে সেটি আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহসান হাবিব বলেন, বিড়ম্বনা এবং চাপ কমানোর জন্যে দুইজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আগে দু’মাসে একটি মিটিং হলেও এখন থেকে মাসে দু’টি মিটিং করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি নাম সংশোধনের এত আবেদন পড়ার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে বলেন, এই বিষয়ে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী-কর্মকর্তাদের এক প্রকার বিরাহমীন কাজ করতে হচ্ছে।

Lab Scan