যশোর শহরে বিদ্যুতের খুঁটিতে অবৈধভাবে পেঁচিয়ে রাখা ডিশ ও ইন্টারনেটের তারে ঘটছে দুর্ঘটনা

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোর শহরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জটলা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের তারের পাশাপাশি অবৈধ ভাবে ডিশ,ইন্টারনেট,টেলিফোনের পাশাপাশি,সিসি ক্যামেরা সংযোগ লাইনের তারে বোঝাই হয়ে গেছে প্রতিটি বিদ্যুতের খুঁটি। যেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডের মত মারাত্মক দুর্ঘটনা। পৌর সদরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সকল সড়কে পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পেঁঁচিয়ে আছে মাকড়সার জালের মত। প্রতিটি খুঁটিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে।
যশোর বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, পৌর সদরের মধ্যে বয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের তারে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্নের বিদ্যুৎ। যার মধ্যে ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) পর্যন্ত রয়েছে। বিশেষ করে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সাব স্টেশনে যুক্ত হয়। এরপর সেখান থেকে ১১ কেভি কোথাও ৪০০ ভোল্ট সর্বশেষ ২৩০ ভোল্ট হয়ে গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয় । যেখানে বিদ্যুত বিভাগ বলছে ১১ কেভি ভোল্টের জন্য ২.৬০ মিটার বা ৮.৫ ফুট,৩৩ কেভির জন্য ২.৮০ মিটার বা ৯ ফুট ন্যূনতম নিরাপদ দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে।
যশোর শহরের এম কে রোড,আর এন রোড,মুজিব,সড়ক,দডাটানা,গাড়িখানা রোড,এমএম আলী রোড,শহীদ সড়ক, রেলরোড,চৌরাস্তা মোড়,হাজী আব্দুল করিম রোডসহ বিভিন্ন একালা ঘুরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে মাকড়সার জালের মত পেঁচিয়ে থাকা তারের দৃশ্য চোখে পড়ে। দেখা যায় একেকটি খুঁটিতে অর্ধশতরও বেশি তার ঝুলছে। ওপরে রয়েছে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের তার। এর নিচে ও মাঝখানে রয়েছে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইনের তার। বৈদ্যুতিক তারের নিচে কোনটি ডিশ,ইন্টারনেট,টেলিফোন সঞ্চালন লাইনের তার। এর সাথে অনেক খুঁটিতে রয়েছে সিসি ক্যামেরার সংযোগ লাইনের তার। কোনও খুঁটিতে ৫ থেকে ১০ টি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের তার রয়েছে। এর সাথে অসংখ্য ব্রডব্র্যান্ড ইন্টারনেটের সঞ্চালন লাইনের তার রয়েছে । সেই সাথে ডিশ ও টেলিফোন সঞ্চালন লাইনের তার তো আছেই। তবে অধিকাংশ খুঁটিতে ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের তার কয়েল আকারে পেঁচানো আছে। একেক খুঁটিতে ১০টিরও অধিক প্যাঁচানো তারের কয়েল ঝুলে আছে। তারের সাথে ঝুলছে ছোট আকৃতির বিভিন্ন ডিভাইস। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ইন্টারনেট কোম্পানির টেকনেশিয়ানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এদিকে খুঁটির নিচে লাগানে ট্রান্সফরমার গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের কোল ঘেঁষা। ঠিক একই ভাবে ভবনের কোল ঘেঁষে আছে খুঁটিতে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার। এসব ভবনের বেলকুনিতে দাঁড়ালেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটতে পারে প্রাণহানি। গত শুক্রবার শহরের এমকে রোডে অর্কিড নামক উচ্চ ভবনের সামনে থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে গিয়ে ব্র্যাক নেটের টেকনেশিয়ান নিহত হন।
তবে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন,ঝুলে থাকার তার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারের কারণে বিভিন্ন সময় ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা শঙ্কিত আছি যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ( ওজোপাডিকো-২) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম বলেন, বিদ্যুতের খুঁটিতে অন্যকোন প্রতিষ্ঠানের তার লাগানোর সুযোগ নেই। আমরা বিভিন্ন সময় ডিশ ও ইন্টারনেট ক্যাবল অপারেটরদেরকে তার অপসারনের নির্দেশ দিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া তাদের কারণে খুঁটি উঠে কাজ করতে গিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন বেগ পোহান।

Lab Scan