যশোর মহিলা লীগের মুলতবি সম্মেলন হচ্ছে না : কেন্দ্রই দেবে কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেষমেষ কেন্দ্র থেকেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলনের মুলতবি হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি আর হচ্ছে না। কাউন্সিলর নিয়ে এক পক্ষের অভিযোগের তদন্ত শেষেই খুব দ্রুত কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ কমিটি ঘোষণা দেবেন। ফলে জেলা মহিলা লীগের মুলতবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই আর থাকলো না। যশোর আওয়ামী লীগ ও মহিলা লীগের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ১২ অক্টোবর যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ দুই যুগ পর এ সম্মেলনকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কমতি ছিলো না। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে যশোর আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ এমপি কাজী নাবিল আহমেদ গ্রুপ ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার গ্রুপের আলাদা আলাদা প্রার্থী ছিল।
কেন্দ্রীয় নেত্রীদের কারণে নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা পর শুরু হয় সম্মেলন। নেতাদের বিলম্ব সকাল থেকে অপোয় থাকা নেতাকর্মীদের সন্দিহান করে তোলে সম্মেলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে । শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তা শেষে সম্মেলনে তারা উপস্থিত হয়ে জেলা মহিলা লীগের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করেন। এরপর নেতা নির্বাচনে দ্বিতীয় অধিবেশনের জন্য নেতাকর্মীদের অপেক্ষা রেখে মধ্যাহ্ন ভোজের কথা বলে নেতৃবৃন্দ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাদের আর দেখা পাননি জেলার নেতাকর্মীরা।
অবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার সম্মেলনস্থলে এসে উপস্থিত নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেন, জেলা মহিলা লীগের কাউন্সিলরের বৈধতা নিয়ে কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য ইসমত আরা সাদেক অভিযোগ করেছেন। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন মুলতবী করেছেন। আগামী ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা করবেন।
এদিকে সম্মেলন মুলতবি হওয়ার পর ১৯ অক্টোবর পেরিয়ে ২৩ অক্টোবর আসলেও কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় অধিবেশনের তারিখের বিষয়ে এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি। এনিয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ জেলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কোনো যোগাযোগও করেননি। যেকারণে নেতৃত্ব প্রত্যাশী মহিলা নেত্রীদের মধ্যে এখন হতাশা কাজ করছে।
এ বিষয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার পক্ষের সভাপতি প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মুলতবি হওয়া সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের আর কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। তিনি বলেন, এতো সুন্দর একটা সুশৃঙ্খল আয়োজন ষড়যন্ত্র করে বানচাল করা হয়েছে। এখন শুনছি কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা হবে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি যশোর জেলা কমিটি ঘোষণা দেন সেক্ষেত্রে আমাদের মতো ত্যাগীরা মূল্যায়িত হবে বলে তিনি দাবি করেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা লীগের এ নেত্রী বলেন, যশোর জেলা মহিলা লীগের কমিটি যে প্রক্রিয়ায় বিলুপ্ত করা হয়েছে তা আমাদের গঠনতন্ত্র সমর্থন করে না। একটি কমিটি বিলুপ্ত করা হলো, অথচ তার চালানোর দায়িত্ব কারোর ওপর দেওয়া হলো না। এভাবে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় কোনো কমিটি এক ঘণ্টাও চলতে পারে না।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের পক্ষীয় সভাপতি প্রার্থী লাইজু জামান বলেন, কেন্দ্র থেকে কমিটি কবে বা কখন ঘোষণা হচ্ছে তা বলতে পারবো না। তবে যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে চলে গেছেন সেহেতু তারাই জেলা নেতৃত্বের বিষয়টি সিদ্ধান্ত দেবেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন আর অনুষ্ঠিত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্মেলনতো শেষ হয়ে গেছে। যেখানে জেলা কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে সেখানে আবার দ্বিতীয় দফা সম্মেলনের প্রয়োজন কী। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই এখন চূড়ান্ত করবেন যশোর মহিলা লীগের কে নেতৃত্ব দেবেন।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, কাউন্সিলর নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি এখন তদন্তাধীন আছে। এটি শেষ হলেই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বসে যশোর মহিলা লীগের কমিটি দিতে পারেন। তবে মুলতবি সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ ভালো বলতে পারবেন।
এদিকে দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা মহিলা লীগের নেতৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে বর্তমান নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের বাইরে নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে। এক্ষেত্রে সভাপতি পদে নুরজাহান আলী নীরা বা লাইজু জামান কারোই না থাকার সম্ভাবনা বেশি। কেন্দ্রীয় কমিটি এ ক্ষেত্রে কাদেরকে বেছে নেবেন সেটি নিয়ে এখন চলছে সর্বত্র আলোচনা।

ভাগ