যশোর জেলায় ৮ দিনে ৪৬ ডেঙ্গু রোগী : মশারির অভাব

বিএম আসাদ ॥ গতকাল রোববার ৫ জন নারীসহ ৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪ জন রোগী। গত ৮ দিনে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের ভেতর ৯ জন ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। এদিকে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি হাসপাতালে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচার-প্রচারণা চললেও প্রতিরোধক ওষুধ ¯েপ্র করার কাজ ধীরগতিতে চলছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তরা হচ্ছেন- যশোর শহরের খালধার রোড এলাকার ব্যাংকার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী লামিশা খাতুন (১৯), ঝুমঝুমপুরের কাবুল আহমেদের স্ত্রী খাদিজা বেগম (২২), সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের হাসান আলীর পুত্র ইমদাদুল হক (২১), চৌগাছা উপজেলা সদরে অবস্থিত নিরিবিলিপাড়ার মোতালেব হোসেনের কন্যা মোহনা (২০), আড়পাড়া গ্রামের রহমত আলীর পুত্র আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য আলতাফ হোসেন (২৮), ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের আবেদ আলীর স্ত্রী ফারহানা বেগম (৬০), বাঘারপাড়া উপজেলার আয়াপুরের আব্দুল বারীর পুত্র নজরুল ইসলাম (২৫) ও মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুরের জাকির হোসেনের স্ত্রী আকলিমা খাতুন (৩৫)। এদের ভেতর মোহনা, আকলিমা, খাদিজা বেগম, ফারহানা ৪ জন এডিস মশার কামড়ে নিজ বাড়িতে আক্রান্ত হয়েছেন। অপর ৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা থেকে গতকাল পর্যন্ত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল মহিলাসহ ২৪ জন। তবে এ রোগেড়র আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বেডে সার্বক্ষণিক মশারি টাঙানোর নিয়ম থাকলেও সব বেডে মশারি টাঙানো হচ্ছে না। স্ট্যান্ড না থাকার কারণে রোগীরা তাদের বেডে মশারি টাঙাতে পারছে না। আবার ইমদাদুল হক ও কালাম হোসেনসহ যারা বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের কোন মশারি নেই। ডেঙ্গু রোগীর অন্য কোন মশা কামড় দিলে ডেঙ্গুর ভাইরাস ওই মশার দেহে প্রবেশ করে। এভাবে ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার ঘটে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সব রোগীকে এভাবে মশারি দেয়ার ব্যবস্থা না থাকার কারণে ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আবার ডেঙ্গু জ্বরের ফলোআপ নির্ণয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে রোগীর প্লোটিলেট কাউন্টের ব্যবস্থা থাকলেও নেই। ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের আইসিটি (ওঈঞ) কীটস-এর ব্যবস্থা। সব মিলে সরকারি এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হাসপাতালের প্যাথলজি কনসালটেন্ট ডা. মো. হাসান আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক আইসিটি টেস্টের জন্য কেমিক্যাল আনার ব্যবস্থা করছেন।
এদিকে, যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে যশোরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ২১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত যশোরে ৪৪ জন রোগী পাওয়া গেছে। যারা সকলেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ভেতর নড়াইলের রাণী (৫২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তরা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইবনেসিনা হসপিটাল, কুইন্স হসপিটাল, মডার্ন হসপিটাল, একতা হসপিটাল, জেনেসিস হসপিটালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের ২৫ জন চিকিৎসা নেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আজ রোববার হতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে আলাদা ইউনিট ও আলাদা ফাইল খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১২ জন রোগী ইবনেসিনা হসপিটাল এবং বাকিরা অন্যান্য হসপিটালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৯ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের রক্তের ‘প্লেটিলেট’ থাকে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত। ১ লাখ ৫০ হাজারের নিচে বা কম রক্তের প্লেটিলেট হলে সাধারণত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয়।

ভাগ