যশোরে ৩২০ টাকা সোনালী মুরগি চড়া দাম সবজি ও গরুর মাংসের

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ রোজার তিন সপ্তাহ বাকি থাকতেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উত্তাপ বেড়েছে। গত দু সপ্তাহে সবজির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক রকমের। এই দুই সপ্তাহে গরুর মাংস ও ডিমের দাম বেড়ে আর কমেনি। আরও এক দফা দাম বেড়েছে মুরগির দাম। ইলিশ মাছও সাধারণ মানুষের কেনার সাধ্যের বাইরে। নিত্যপণ্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে ব্যর্থের জন্য সরকারি তদারকি সংস্থাকে দায়ী করছেন ভোক্তারা। গতকাল শুক্রবার যশোরের বড়বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
৫০ টাকার বরবটি মাত্র দু সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে গতকাল বড়বাজারে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। কচুরলতির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দু সপ্তাহে বেগুণের কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ১০ টাকার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে।
শুধু সবজি নয় গত দু সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ীরা গরুর মাংসে ৫০ টাকা বাড়িয়ে আর দাম কমাননি। এখনও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর হাড় মাংস বাদে গরুর মাংস কেজিতে সাড়ে ৭শ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এমন দাম বোর্ডে টাঙিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। মাংস বিক্রেতারা বলছেন হাটে গরুর দাম বেড়েছে তাই মাংসের দাম বেশি। বাজারে মুরগির ডিমের দামও বেড়ে আর কমেনি। গতকালও প্রতি হালি ডিম ৪৪ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিকে মুরগির বাজারে অস্থিরতা কাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দিন দিন দাম বেড়েই চলেছে। গতকাল বড়বাজারে খামারের সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩১০ টাকা, ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকা ও দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৫শ টাকা কেজি দরে। মুরগি বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, বাজারে মুরগির আমদানি কম। তাছাড়া ক্রেতারাও বেশি দাম দিয়ে মুরগি কিনতে পারছেন না। রোজায় মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন। মাংসের পাশাপাশি ইলিশ মাছের দামও যথেষ্ট বেশি। বড়বাজার মাছবাজারে গতকাল ৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৮শ টাকা, ৭শ/৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৩শ টাকা ও এক কেজি ওজন ইলিশ ১৫শ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
প্রতিটি নিত্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া দামে হতাশ জনৈক ক্রেতা শহরের বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী ইলিয়াস কবির সরকারি তদারকি সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে এ প্রতিবেদককে জানান, বিগত দু তিন বছর ধরে দেখা যাচ্ছে রোজার মাস দুয়েক আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে থাকেন। রমজান মাসে তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা থাকায় ব্যবসায়ীরা এ কৌশল বেছে নিয়েছেন। তাই দেখা যায় রোজার মধ্যে পণ্যের দাম বাড়ে না। দাম যা বাড়ার তা রোজার আগেভাগেই বাড়িয়ে নেওয়া হয়। এটা জানার পরও সরকারি তদারকি সংস্থাগুলো রোজার আগে তেমন কোনো ভূমিকা রাখছে না। ফলে এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

 

Lab Scan