যশোরে ৩০ টাকার লবণ হঠাৎ সন্ধ্যায় ৬০ টাকা !

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ কোনো কারণ ছাড়াই গতকাল যশোরে লবণের দাম কেজিতে এক লাফে ২০ টাকা বেড়েছে। লবণের দাম আরও বৃদ্ধি এবং সংকটের আশঙ্কায় যশোরের বিভিন্ন বাজারে সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ দোকানগুলোতে শ শ মানুষের লাইন পড়ে যায়। অনেক দোকানি লবণ বিক্রি শেষ বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেন। এছাড়া বিভিন্ উপজেলায়ও বাড়তি দামে লবণ বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। লোকসমাজে অনেক ভোক্তা লবণের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ফোন করেন। অথচ যশোরে লবণের ডিস্ট্রিবিউটররা বলছেন দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত লবণ বাজারে সরবরাহ আছে।
এদিকে গুজবে কান না দেয়ার জন্য রাতেই জেলা প্রশাসন শহরে মাইকিং শুরু করে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে অভিযানে নামে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে লবণের দাম বেড়ে গেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। যশোরের বড় বাজারসহ গতকাল বিকেলেও দোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি লবণের প্যাকেট ৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। কিন্তু চলমান গুজব যশোরে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকে খুচরা দোকানিরা প্রতি প্যাকেটে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রি করতে থাকে। এ সময় বড় বাজারের হাটখোলা রোড, এইচ এম এম রোড, মাছ বাজার রোড, ভুজোপট্টিÍর দোকানগুলোতে ক্রেতারা হুমকি পেয়ে পড়ে লবণ কেনার জন্য।
এইচ এম এম রোড কালীবাড়ী এলাকার দোকানি বিপি স্টোরের মালিক কৃষ্ণপদ ঘোষ প্রতি কেজি বিভিন্ন ব্যান্ডের লবণের প্যাকেট ৫০ টাকায় বিক্রি করেন, একই রোডের হিম স্টোরের মালিক গোপালকে ৪০-৪৫ টাকা প্রতি কেজি লবণের প্যাকেট বিক্রি করতে দেখা যায়। বাজারের ভুজোপট্টির নাহার ট্রেডার্সের দোকানি ইসমাইল হেসেন জানান, প্যাকেটের গায়ে ৩৫ টাকা লেখা আছে, কিন্তু তারা ৫ টাকা কমে ৩০ টাকা করে ক্রেতাদের কছে বিক্রি করতেন, গতকাল সন্ধ্যার পরে তিনি ৩৫ টাকা করে বিক্রি করেছেন। তিনি আরও বলেন ক্রেতাদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হয়েছে।
কনফিডেন্স কোম্পানি লবণের যশোরের ডিস্ট্রিবিউটর মুস্তাক আহমদ লোকসমাজেকে জানান, হঠাৎ কেন গুজব ছড়িয়ে গেল তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন বাজারে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ আছে, এ সময় লবণ সংকটের কোনো কারণ নেই, তিনি মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে রাতে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এ প্রতিবেদককে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দেয়ার জন্য শহরে মাইকিং শুরু হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত অসাধু ব্যবসায়দের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় শহরের দড়াটানায় ভাই ভাই স্টোরকে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কারণ তিনি প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ৬০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দোকানি মো. মোবারককে ৫০ টাকা লবণের প্যাকেট বিক্রির অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাতে শহরের বড় বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর খবর শোনা যায়। এ সময় দোকানিদের ৫০-৬০ টাকা থেকে কমিয়ে প্রতি কেজি লবণের প্যাকেট ৩২ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। তাছাড়া ডিবি পুলিশ বাজারে লবণের বিভিন্ন গুদামের সন্ধানে নামে বলে সংশিল্ট সূত্রে জানা যায়। এদিকে রাত ৯ টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শহরের বিভিন্ স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছিল বলে জানা গেছে।

ভাগ