যশোরে ১৪৪ ধারা জারি করেও থামানো গেল না ভোট ডাকাতি করে মসনদ দখল করা যায় মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া যায় না –অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

 

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে আবারও ১৪৪ ধারা জারি করে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের অগ্রযাত্রাকে থামানো গেল না। লেবুতলা ইউনিয়নে তার পূর্ব নির্ধারাতি কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ইউনিয়নের অন্য কোন স্থানে কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ার জন্য সকল ধরণে অপতৎপরতা চালানো হয়। বলিষ্ঠ ও সাহসী নেতৃত্বে দলের খুলনা বিভাগের এই শীর্ষ নেতা ১৪৪ ধারাকে পাশ কাটিয়ে সকল অপতৎপরতাকে রুখে দিয়ে জনতার দাবি আদায়ের কর্মসূচি সফল করে প্রমাণ করেন দীর্ঘ এক যুগের অধিস সময় ধরে সরকারের সীমাহীন নির্যাতন, নিপীড়নের মধ্য দিয়ে আজও বিএনপি রাজপথে অবিচল জনতার সকল ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি আদায়ের সংগ্রামে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যাপ্রযোজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং ভোলায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল নেতা নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমকে হত্যা প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোীষত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপি স্থানীয় কোদালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভা করার কথা থাকলেও পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি নস্যাৎ করতে স্থানীয় যুবলীগ পাল্টা কর্মসুচির পালনের ঘোষণা দেয়। এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা একই স্থানে দলীয় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। যে কারণে প্রশাসন অপ্রীতির ঘটনা এড়াতে সেখানে উভয় দলের কর্মসূচি পালনের উপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্থান পরিবর্তন করে পাশের লেবুতলা বাজারে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করেন। এসময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, নিশিরাতে ভোট ডাকাতি করে অবৈধ ক্ষমতার মসনদ দখল করা যায়। কিন্ত জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া যায় না। এখন থেকে যেখানে বিএনপির শান্তিপুর্ণ কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে, জনগণকে সাথে নিয়ে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোট ডাকাতি করে যারা সংসদে গেছেন, তারা কেউ সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেন না। তাই বিএনপি জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য রাজপথে সংসদ স্থাপন করেছে। যে সংসদ জনগণের অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলে। তাদের ন্যায্যা দাবির পক্ষে কথা বলে। আজকে শুধু যশোর নয় সমগ্র বাংলাদেশে রাজপথে বিএনপির নেতৃত্বে জনগণের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কোন ভাবেই সেই জোয়ার ঠেকানো যাবে না। জনতার বাধ ভাঙ্গা জোয়ারে কতৃত্ববাদী অবৈধ শাসক গোষ্ঠীর পতন নিশ্চিত হবে ইনশায়াল্লাহ । পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে লেবুতলা বাজার থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি যশোর- মাগুরা মহাসড়ক হয়ে পার্শ্ববর্তী খাজুরা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে খুলনা বিভাগের এই শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে যশোর শহরের দাড়াটানা ২৫০ শয্যা হসাপাতাল মোড় থেকে নগর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখা আয়োজিত পথসভা শেষে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বেল হয়। দুটি পৃথক কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এবং উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রেজা দুলু, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান খাঁন,মারুফুল ইসলাম,মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, কাজী আজম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, নগর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি মারুফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির মালিক, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মনোয়ারুল ইসলাম হ্যাপি, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দেলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর সাত্তার প্রমুখ। উল্লেখ্য এর আগে ২২ ডিসেম্বর যশোর টাউন হল মাঠে একই অবস্থার মধ্য দিয়ে গণসমাবেশ সফল করেন তিনি।

Lab Scan