যশোরে হত্যা ও স্বর্ণ চোরাচালানের দুই মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে হত্যা ও স্বর্ণ চোরাচালানের আলাদা মামলায় দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার সিনিয়র দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতের বিচারক মো.ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক এবং বিশেষ দায়রা জজ ও স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক পৃথক এই রায় প্রদান করেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পিপি অ্যাড. এম ইদ্রিস আলী ও বিশেষ পিপি অ্যাড. সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, শার্শা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের ছেউদ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন আলম ও তাহাজ্জত আলী সরদারের ছেলে জিহাদ আলী সরদার। সাজাপ্রাপ্ত দুইজনই পলাতক রয়েছেন।
স্বর্ণ চোরাচালান মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাদিপুর গ্রামের মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে জিহাদ আলী সরদারকে আটক করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে হাফপ্যান্টের পকেটে রাখা ১০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে বিজিবি’র নায়েক সুবেদার আব্দুল মালেক চোরাচালান দমন আইনে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র ইনসপেক্টর নজরুল ইসলাম। মামলায় আসামি জিহাদ আলী সরদারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অপরদিকে হত্যা মামলার বিবরণে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের কৃষক শাহাজাহান একই গ্রামের আলমের কাছে ধারের ১০ হাজার টাকা পেতেন। পাওনা টাকা চাওয়ায় আলম তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। ২০০৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শাহাজাহান গ্রামের পশ্চিম মাঠের জামিতে পানি দিতে যান। তিনি মাঠে গিয়ে দেখেন, দেখে আলমও তার জামিতে পানি দিচ্ছেন। পরে বাড়ি ফেরার পথে কালভার্টের ওপর পৌঁছালে আলম ধাওয়া করে সেখানে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরই মধ্যে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে আলম ভারতের দিকে পালিয়ে যান। এব্যাপারে আলমকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন নিহতের ছেলে ইউসুপ। এ মামলার তদন্ত শেষে আলমকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ৪ জুলাই আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই ওমর শরীফ। মামলায় আসামি আলমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক।

Lab Scan