বিএনপির ডাকা চতুর্থ দফার অবরোধের প্রথম দিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্তমান সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিএনপির ডাকা চর্তুথ দফার প্রথম দিনের অবরোধ সর্বাত্মক পালিত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত ধরপাকড়ের মধ্যে দিয়েও জেলাজুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হয়।
রোববার অবরোধের প্রথম দিন ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা পৌর সদর সর্বত্রই রাজপথে নেমে আসেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা মুক্তির মিছিল আর স্লোগানে যশোরের রাজপথকে প্রকম্পিত করেন। তবে শনিবার রাতভর এবং গতকাল রোববার দিনভর জেলাজুড়ে সর্বোচ্চ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা। তাদের অভিযানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূবসহ ৯ জন আটক হন।
এছাড়া যশোর শহরের ঢাকা রোড ব্রিজ এলাকায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করলে সেখানে ডিবি পুলিশের সদস্যরা হামলা চালায়।

সেখান থেকে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক ওমর খসরু রুম্মনসহ ৬ জনকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গ্রেফতার অভিযানের পরও থেমে থাকেনি কর্মসূচি পালন। যশোরের সকল রুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
রোববার ভোর থেকেই অবরোধের সমর্থনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে নগর বিএনপি মিছিল করে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে নগর যুবদল মিছিল করে।

যশোর-মাগুরা মহাসড়কে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল দিনভোর অবস্থান নিয়ে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করে । যশোর-নড়াইল সড়কে সদর উপজেলা যুবদল মিছিল করে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল মিছিল করে। যশোর-মনিরামপুর সড়কেও ভোর থেকে মুক্তিকামী জনতা নেমে আসেন। একই সড়কের মনিরামপুর অংশেও বিএনপি যুবদল,ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ মিছিল করেন। খুলনা-কেশবপুর সড়কে কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদল সকাল থেকে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করে।
জেলার কোনো সড়ক-মহাসড়কে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। দুপুর ৩ টার দিকে শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় সারিবদ্ধভাবে বাসগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পরিবহন শ্রমিকরা কেউ গাড়িগুলো ধোয়া মুছার কাজ করেন, কেউবা চায়ের দোকানে, দল বেধে টার্মিনাল ভবনের ছাদে খোশ গল্প করে সময় পার করছেন। এসময় কথা হয় যশোর-সাতক্ষীরা রুটের বাস চালক ওমর আলীর সাথে। তিনি জানান, রাস্তায় কোনো যাত্রী নেই। সকাল থেকে গাড়ি ধোয়া মোছা করে হাত পা গুটিয়ে বসে আছি।
মনিহার বাসস্ট্যান্ড ও খাজুরা বাসস্ট্যান্ড পরিবহন শ্রমিকরাও একই কথা বলেন। এছাড়া জেলা কোন সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে পণ্যবাহী কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। দুপুর ২ টার দিকে যশোর-বেনাপোল সড়কের পুলেরহাটে কোনো ধরনের পণ্যবাহী যান দেখা যায়নি।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সাথে জনগণের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণ অনেক আগেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিএনপির নেতৃত্বে চলমান দেশ রক্ষার আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ঘৃণষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।

Lab Scan