যশোরে শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশের মারমুখী আচরণ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরের শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে। তবে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বিনাউস্কানিতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে। হামলার অভিযোগ উঠেছে মহিলাদল নেত্রীদের ওপর। এছাড়া পলাশ নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের আটক করে নিয়ে গেছে। এ অবস্থার মধ্যেই হরতালের পক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়েছে।
রোববার ভোর ছয়টার পর থেকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে শহরের দড়াটানা মোড়ে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের হয়। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন ও জুয়েল ইমরানের নেতৃত্বাধীন একদল পুলিশ সদস্য নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এ সময় পুলিশ সদস্য মহিলা দল নেত্রীদের লাঠিচার্জ করে। এসময় পুলিশ সদস্যরা সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবদল নেতা পলাশকে পেটাতে পেটাতে খালি গায়ে চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের এমন মারমুখী আচারণের ভিডিও ধারণ করায় সংবাদকর্মী খলিলুর রহমানকেও গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
পরে জেল রোড এলাকায় হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এসময় জেলা যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুলকে পিটিয়ে আহত করে পুলিশ গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। সেখানে উপস্থিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দৃঢ়তায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
পুলিশের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচারণের মধ্যেও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে শহরে হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে জেলা রোড, এইচ এম রোড, কাঠেরপুল ও ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকায় মিছিল করেন।
এদিকে হরতালে যশোর থেকে দুর পাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে মণিহার খুলনা বাস স্ট্যান্ড, খাজুরা বাস স্ট্যান্ড থেকে কোন রুটে বাস ছেড়ে যায়নি। এসব এলাকা ঘুরে পরিবহন সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে এমনটি জানা যায়।
আবার শহরের এইচএমএম রোড থেকে শুরু করে এমকে রোড, আর এন রোড,মুজিব সড়ক এলাকায় গিয়ে অভিজাত শপিং কমপ্লেক্স ও বিপনী বিতানের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও হরতালের সমর্থনে নিজ থেকে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে বিনাউস্কানিতে পুলিশের এমন তান্ডবের প্রতিবাদে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পোশাক পরে অস্ত্র হাতে নিয়ে মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়া যশোরের ইতিহাসে নজির বিহীন। পুলিশের এমন আচারণ ইতিপূর্বে যশোরবাসী দেখেনি। তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নেই। আমরা জনগণের ভোটাধিকার,সকল মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছি। এমনকি আমাদের এই আন্দোলন আপনাদেরও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার কৌশলে আপনাদেরকে আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশ ও জনগণ বাঁচানোর এই শান্তিপূর্ণ হরতাল যশোর সাধারণ জনগণ বিএনপির আকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু তারপরও গতরাত থেকে পুলিশ আমাদের নেতাকর্র্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে। এ অভিযান থেকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবির সুমনসহ ৫০জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে সমর্থন দেওয়া তিনি যশোরবাসীকে দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

Lab Scan