যশোরে মৃত্যুর পর আরও একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত : আক্রান্ত ৩৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের পুরাতন কসবার ব্যবসায়ী শামীমুর রহমান (৪০) প্রাণঘাতী মহামারী করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর পর সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এ নিয়ে যশোরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ জন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে গতকাল কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত ৩৯ জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শামীমুর রহমানের নাম। গত ২৬ জুন তিনি করোনার উপসর্গ নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তাকে রাতে খুলনা গাজী মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। খুলনায় নিয়ে যাওয়ার সময় রাত ১০টার দিকে পথের মাঝে তার মৃত্যু হয়। ২৭ জুন বেলা ১১টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে তার কোভিড-১৯ সংক্রমণের নমুনা নেয়া হয়। এরপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে দাফন করা হয়। শামীমুর রহমান পুরাতন কসবা এলাকার আনিছুর রহমানের পুত্র। তিনি ছিলেন ওষুধ ব্যবসায়ী। গতকাল করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর প্রশাসন থেকে মৃতের বাড়ি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। এ নিয়ে যশোর সদরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ জন। এর আগে ওহাব আলী, খালেক গাজী ও মমিনুর রহমান নামে ৩ জন মারা যান। অভয়নগরে মারা গেছে ৪ জন। আমির হোসেন, আনিছুর রহমান, বিমলেন্দু চক্রবর্তী ও বেলাল হোসেন। শার্শায় মারা গেছে জাকির হোসেন, আবুল খায়ের ও ইয়াকুব আলী। বেলাল হোসেনের নাম এতোদিন যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তালিকায় থাকলেও গতকাল বাদ দেয়া হয়েছে, এমওসিএস ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, এক নাম দু’জায়গায় এন্ট্রি হবে না। বেলাল হোসেনের নাম ঢাকায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেখানে তিনি মারা গেছেন। শার্শা হরিষচন্দ্রপুরের মৃত ইয়াকুব আলীর নাম জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মৃত্যু তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়নি। কারণ, বাড়িতে তিনি মারা যান। ঢাকা থেকে কোভিড-১৯ এ তিনি আক্রান্ত ছিলেন। পরে পালিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। এ কারণে মৃত্যুর তালিকায় তার নাম উঠেনি। এ কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যুর তালিকা ৯ জন হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. রেহনেওয়াজ।
এদিকে, যশোরে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এক অফিস সহকারী, হাসপাতালের সেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, ব্যাংকার, কলেজছাত্রসহ বিভিন্ন এলাকার ৩৯ জন নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে যশোরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫শ’ ৫৫ জন। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গতকাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১শ’ ৪২টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এর ভেতর নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন। আক্রান্ত ফলোআপ ছিল ৩ জন। যশোর সদরে ২৭ জন, কেশবপুর ও শার্শায় ৫ জন করে ১০ জন এবং চৌগাছায় ২ জন রয়েছেন আক্রান্তের তালিকায়। এর ভেতর যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার এক ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করেছেন। হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে যশোর ২৫০ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিরা পারভীন (৩২), পরিচ্ছন্নতা কর্মী জাহিদা খাতুন (৫২), কোয়ার্টারের ৩০ বছর বয়সের এক যুবক, যশোর পুলিশ লাইনের কনস্টেবল ফারুক হোসেন (২২), বি-সার্কেল (সদর) পুলিশ কোয়ার্টারের গৃহবধূ শামমুননাহার (৫১), যশোর সিভিল সার্জন অফিসের অফিস সহকারী টিবি কিনিক এলাকার রাশেদুজ্জামান (৩২), চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী হাকিমপুরের মো. কামরুজ্জামান (২৮), চৌগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মরত ইনজাহের হোসেন (৩৯), ঝিকরগাছা ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত আব্বাস আলী (৩৬), যশোর আল-আরাফা ব্যাংকে কর্মরত নাজির শংকরপুরের মোস্তফা (৩৬), ২৫০ শয্যা হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের ২০ বছর বয়সী এক গৃহবধূ, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার ১১ বছর বয়সের এক স্কুলছাত্র, ৩২ বছর বয়সী এক গৃহবধূ, বেজপাড়ার ৭১ বছর বয়সের এক ব্যবসায়ী, ৬৫ বছরের এক গৃহবধূ, ৫৫ বছরের এক গৃহিনী, ২৬ বছর বয়সের এক ছাত্র, ষষ্টিতলাপাড়ার ৬০ বছরের এক ব্যবসায়ী, ৫০ বছরের এক গৃহবধূ, খাজুরার ৬৫ বছরের এক গরু ব্যবসায়ী, শার্শার বেনাপোলের ৬০ বছর ও ৩০ বছরের দু’কৃষক, বেজপাড়ার ২৬ বছরের কলেজছাত্র, কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ৩৫ বছরের এক অ্যাম্বুলেন্সচালক, সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা স্কুলের ৩৫ বছরের এক দপ্তরি, কেশবপুরের দু’ঁছাত্র-ছাত্রী, ৫৭ বছরের এক কলেজ শিক্ষক, ২৫ বছরের এক গৃহবধূসহ মোট ৩৮ জন এখন করোনা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ভাগ