যশোরে মুরগির ডিম ৪৬ সবজির বাজার টালমাটাল

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। যশোরে সবজির বাজার এখনও টালমাটাল। এ সপ্তাহে ফের বেড়েছে মুরগির ডিমের দাম। লিটারে ১০ টাকা কমের বোতলজাত সয়াবিন তেল এখনও বাজারে আসেনি। বোরো মৌসুমে চিকন চালের দাম কমেছে, বেড়েছে গত মৌসুমের মোটা আমন ধানের চালের দাম। তীব্র তাপপ্রবাহ আর কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা দাম কমিয়ে মুরগি বাজারে ছেড়েছেন। গতকাল শুক্রবার বড়বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
আষাঢ় মাসেও গ্রীষ্মকালের সবজির দাম কমেনি। শুক্রবার(১৬ জুন) বাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হতে দেখা যায় ১২০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, সজনেডাটা ১০০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, টমেটো ৭০/৮০ টাকা, মুখীকচু ৭০/৮০ টাকা, বেগুন ৫০/৬০ টাকা ও শসা ৪০/৫০ টাকা । বড়বাজার মাছবাজার রোডের কাঁচামাল আড়তদার ‘মণিরামপুর ভা-ারের’ জহিরুদ্দিন কাজল জানান, গরমে ক্ষেতের গাছ নষ্ট হচ্ছে, এ কারণে ফলন কমে গেছে।
এদিকে বাজারে খামারের মুরগির ডিমের দাম আবারও বেড়েছে।  শুক্রবার বড়বাজারে প্রতি হালি ডিম ৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৪ টাকা। তবে খামারের মুরগির দাম এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৫০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, তীব্র তাপপ্রবাহে খামারিরা বাধ্য হয়ে দাম কমিয়ে মুরগি বিক্রি করছেন। তাছাড়া সামনে কুরবানি ঈদ। ঈদের পরে অন্তত মাসখানেক ক্রেতারা মুরগি কেনা থেকে বিরত থাকেন। এসব কারণে মুরগি কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১০ টাকা কমালেও বাজারে এখনও নতুন দামের বোতল বাজারে আসেনি। নতুন দাম করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা। গতকাল শুক্রবারও বাজারে আগের বোতল ১৯৯ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বড়বাজারে খুচরা দোকানি ইফাত স্টোরের স্বত্বাধিকারী সোহরাব হোসেন জানান, সরকার নির্ধারিত ১৮৯ টাকা দরের বোতলজাত সয়াবিন তেল আগামী সপ্তাহে বাজারে আসতে পারে। খোলা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী রবি ব্যানার্জি জানান, তিনি প্রতি কেজি সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, সুপার তেল ১৪০ টাকা, পাম তেল ১৩৫ টাকা ও সরিষার তেল ১৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি জানান গত সপ্তাহের থেকে খোলা তেলে কিছুটা দাম কমেছে। তবে তার আশঙ্কা হয়ত কুরবানি ঈদের পর আবারও তেলের দাম বাড়তে পারে।
এখন ভরা বোরো মৌসুম। বাজারে নতুন ধানের প্রচুর চাল উঠেছে। বোরে ধানের চিকন চালের দামও বেশ খানিকটা কমেছে।  শুক্রবার বড়বাজার চাল বাজারের ব্যবসায়ী সুশীল কুমার বিশ^াস জানান, তিনি গতকাল বোরো ধানের চিকন মিনিকেট চাল মানভেদে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা ও বাংলামতি চাল ৬২ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি করেছেন। এর আগে মিনিকেট চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা ও বাংলামতি চাল ৬২ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তবে বাজাওে গত মৌসুমের মোটা আমন ধানের চাল কিছুটা বেড়েছে। স্বর্ণা চাল ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা, বিআর-৪৯ ধানের চাল ৫০ থেকে ৫১ টাকা, বিআর-২৮ ধানের চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ী সুশীল কুমার বিশ^াস আরও জানান, আমন ধানের মোটা চালের চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম বেড়েছে।

Lab Scan