যশোরে মহিলাদলের মানববন্ধন পুলিশের মারমুখী আচরণে পণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে পুলিশের বাধায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে পারেনি জাতীয়তাবাদী মহিলাদল। দলের নেত্রীদের অভিযোগ ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যশোরে পুলিশের হাতে শ্লীতাহানি ও মারপিটের শিকার হয়েছেন তাদের একাধিক নেতাকর্মী । এছাড়া এসময় যশোর কোতয়ালি থানা পরিদর্শক (তদন্ত) পলাশ বিশ্বাস জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সালকে লাঞ্ছিত করেন।
জেলা মহিলাদলের সভানেত্রী রাশিদা রহমান ও নগর মহিলাদলের সভানেত্রী শামসুন্নাহার পান্না জানান,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক অতি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করে বুধবার শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। প্রেসক্লাব যশোরের সামনে বেলা ১১ টায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শুরুর আগেই ইন্সপেক্টর পলাশ বিশ্বাস ও রেজাউল করিমের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় পলাশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আমাদের নেত্রীদের গায়ে লাথি মারেন। কারও গায়ের ওড়না ধরে টান দেন। একটা পর্যায়ে আমাদেরকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে সিভিল কোর্ট মোড়ে নিয়ে যান। সেখানে আইনজীবী ভবনের সামনে দাঁড়াতে গেলে তারা পুনরায় আমাদের গায়ে হাত তোলেন ও ব্যানার কেড়ে নেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ পলাশ বিশ্বাসের অপসারণের দাবি করেন।
তারা দাবি করেন, কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর পলাশ বিশ্বাস ও রেজাউল করিম নেতৃত্বে মহিলাদল নেত্রীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এ সময় ইন্সপেক্টর পলাশ বিশ্বাস নিজেই জনসম্মুখে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সালকে জামার কলার ধরে বেধড়ক মারপিট করেন। পুলিশের এসআই আব্দুর রাজ্জাক, রোকনুজ্জামান, হুয়ামূন কবির, আব্দুল মালেক, এএস আই নিলুফাসহ বিপুল সংখ্যাক পুলিশ সদস্য এতে অংশ নেন।
নেত্রীদ্বয় আরও বলেন, ঘরে -বাইরে কোনখানে আজ মহিলাদের নিরাপত্তা নেই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিনিয়ত দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ নামক হায়নাদের হাতে সাধারণ ছাত্রীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা এতটাই অনিরাপদ যে তাদের অভিভাবককে আটকে রেখে ছাত্রলীগ ধর্ষণ করছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক মহিলাদল নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাব যশোরে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদিকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, সদর উপজেলা মহিলাদলের সভানেত্রী হাসিনা ইউসুফ, জেলা মহিলাদলের যুগ্ম-সম্পাদিকা রাফতা আরা ডলি, সহসাংগঠনিক সম্পাদিকা আনোয়ারা পারভিন আনু, নগর মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদিকা সাবিহা সুলতানা, সাংগঠনিক সম্পাদিকা আম্বিয়া মঞ্জুর মুক্তা,মহিলাদল নেত্রী অ্যাড. মৌলুদা পারভিন, ফাইনারা বর্ণা প্রমুখ।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পলাশ বিশ্বাস বলেন, ওখানে মহিলাদলের কর্মসূচি পালনের কোন অনুমতি ছিল না। ওনারা সংখ্যায় কম ছিল ,নিজেরাই নিজেদের মত চলে গেছে। পুলিশ কোন হস্তক্ষেপ করেনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পুলিশ নিরাপদ দূরত্বে ছিল। মহিলাদলের কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে এমন কোন তথ্য আমার কাছে নেই।

 

Lab Scan