যশোরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ: জনগণকে সাথে নিয়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অচিরেই দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলে যশোরের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শনিবার বিকেলে শহরের লাল দীঘিপাড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক রেখে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। স্বাধীনতা হরণকারী এই ফ্যাসিবাদি সরকার দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা অপরাধে একবছর কারাগারে আটকে রেখেছে। ইতিহাসের জঘন্যতম বেহায়া নির্লজ্জ এ ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাহত করে দেশপ্রেমিক সরকার গঠন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর জেলা বিএনপি এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রফেসর গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান খান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নুরুন্নবী, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, নগর ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমীর ফয়সাল ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর।
জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু মুরাদের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সবুর মন্ডল, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌরমেয়র মারুফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক মুন্না, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, রবিউল ইসলাম রবি, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, প্রমাণ হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এজন্য ভোট ডাকাতির এ নির্বাচন বাতিল করে একটি গ্রহণযোগ্য সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে হলে আগে আমাদের নেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ উত্তপ্ত করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নৈশকালীন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় আসলেও মূলত তাদের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। দেশের ১০ ভাগ মানুষও এ সরকারকে সমর্থন করে না। সরকারের যতটুকু জনপ্রিয়তা ছিলো ভোট ডাকাতির মাধ্যমে শেষ হয়ে গেছে। সমাবেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।

ভাগ