যশোরে বিএনপির গণঅনশন কর্মসূচিতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত: খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের মা, আপোষহীণ দেশনেত্রীর মুক্তি না হবে ততদিন রাজপথ ছেড়ে যাবো না। তার মুক্তির একমাত্র পথ হলো রাজপথ। জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ প্রকম্পিত করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জেলা বিএনপি আয়োজিত দিনব্যাপী গণঅনশন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।


জেলা বিএনপি কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত গণঅনশনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, জনগণের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ানোই বেগম খালেদা জিয়ার জন্যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রকৃতপক্ষে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। জনগণের মনোভাব বুঝে রাজনীতি করেন। বেগম খালেদা জিয়া কোন আধিপত্যবাদী শক্তির অধিকারী নন। তিনি বাংলাদেশকে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে লিজ দিতে চাননি। এটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ। যে কারণে মৃত্যুপথযাত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যখন ১/১১-এর অনির্বাচিত সরকার গ্রেফতার করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিল, তখন সর্বপ্রথম বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবাদ করেছিলেন। শেখ হাসিনার উন্নত চিকিৎসার জন্যে যখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেছিলেন তখন বেগম খালেদা জিয়া দাবি তুলেছিলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া এই উদারতার রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন বলে সেদিন শেখ হাসিনা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন। আজকে আওয়ামী লীগের পাতি নেতা থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বাররা সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসা নিতে। আর মন্ত্রী এমপিরা দাঁতের চিকিৎসা করাতেও যান লন্ডনে। আবার চোখ, কান দেখাতে যান আমেরিকায়। অথচ, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর চিকিৎসার জন্যে আন্দোলন করতে হয়। এটিই হচ্ছে দেশের চরম বাস্তবতা। আজ বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম দান করেছিলেন। যে কারণে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পরিচয় দিতে পারছেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, অথচ, বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলুন্ঠিত করা হয়েছিল। আজ বেগম খালেদা জিয়াকে একটি সাজানো, পাতানো, মিথ্যা মামলার দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের টাকা লোপাট হচ্ছে। যার কোন বিচার হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, একে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-উন-নবী, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আজম, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. মকবুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান মধু, বাঘারপাড়া পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মনা, সাবেক জেলা বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, রবিউল ইসলাম, মারুফ হোসেন, জেলা মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদিকা রাশিদা রহমান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, শেখ রবিউল ইসলাম রবি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, আব্দুর রাজ্জাক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া গণঅনশন কর্মসূচি শেষ হয় বেলা ৪টায়। জেলা বিএনপির এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন উপজেলার নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীরা যোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দলীয় প্রধানের আশু রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। বিকাল ৪টায় মুশফিকা রহমান মারিয়ম নামের একটি শিশুর অধ্যাপক নার্গিস বেগমকে জুস খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে অনশন কর্মসূচি শেষ হয়। কর্মসূচি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী আনিছুর রহমান মুকুল।

Lab Scan