যশোরে প্রেমিকের আত্মহত্যা, প্ররোচণার অভিযোগে প্রেমিকার নামে মামলা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমজ সম্পর্ককে অস্বীকার এবং প্রেমিককে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে লামিয়া বিশ্বাস রিয়া (১৮) নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার দক্ষিণ ললিতাদাহ গ্রামের মৃত মোসলেম আলীর ছেলে আতিয়ার মোল্যা মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।
আসামি লামিয়া বিশ্বাস রিয়া সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের মারুফ বিশ্বাসের মেয়ে। মামলায় তাকে ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় আতিয়ার মোল্যা উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে রাজিব অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। দুই বছর আগে রাজিব প্রতিবেশী ভাই নয়নের সাথে তার ফুফুবাড়ি পাগলাদাহ গ্রামে যান। সেখানে ফুফাতো ভাই সাগর ও বোন সাগরিকার মাধ্যমে আসামি রিয়ার সাথে রাজিবের পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে রাজিব ও রিয়ার মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি রিয়া দক্ষিণ ললিতাদাহ গ্রামে রাজিবের বাড়িতেও যাতায়াত করতেন। রাজিব ও রিয়া একে অন্যকে বিয়ে করতে সম্মত ছিলেন। যা উভয়ের পরিবার অবগত ছিলো। এরই মধ্যে রিয়া আবার অন্য ছেলের সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং রজিবকে প্রত্যাখান করেন। এ ঘটনায় রাজিব মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। গত ৮ মার্চ বিকেলে রাজিব মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে রিয়া তাকে বিয়ে করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। সেই সাথে রিয়া তাকে একথা বলেন যে, তার থেকে ভালো ছেলে পেয়েছেন। ওই ছেলেকেই তিনি বিয়ে করবেন। পারলে রাজিব গলায় দড়ি দিয়ে অথবা বিষপানে আত্মহত্যা করুক। তাতে রিয়ার কোনোকিছু যায় আসেনা। প্রেমিকার কাছ থেকে এমন আঘাত পেয়ে সইতে না পেরে এবং অপমান বোধ করায় ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের বেলেডাঙ্গা মাঠের খেজুরগাছের সাথে গলায় গামছা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন রাজিব। এ খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে রাজিবের আত্মহত্যার বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় পরদিন কোতয়ালি থানায় অপমৃত্যুর মামলা করে পুলিশ এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে রাজিবের লাশ দাফন করা হয়।

 

Lab Scan