যশোরে পুলিশের ভুলে আটক মিজান অবশেষে কারামুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রকৃত আসামির পরিবর্তে পুলিশের হাতে আটক নির্দোষ দিনমজুর মিজানুর রহমান মিজানকে গতকাল বুধবার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ভুল স্বীকার করে পুলিশের দেয়া প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাহাদী হাসান এ আদেশ প্রদান করেন। নির্দোষ মিজানুর রহমানকে আটকের ঘটনায় সাংবাদিকদের বিশেষ ভূমিকা পালন ও পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে পুলিশ প্রশাসনের। এর প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তের পর এদিন আদালতে ভুল স্বীকার করে ওই প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদিকে গতকাল পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দোষ মিজানুর রহমানকে আটকের ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে আটককারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। কোতয়ালি থানা পুলিশের এএসআই আল মিরাজ খান সঙ্গী একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে গত সোমবার গভীর রাতে খোলাডাঙ্গার সরদারপাড়া আরবপুরপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আটক করেন মিজানুর রহমান নামে ওই দিনমজুরকে। মারামারি ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত একটি মামলার ওয়ারেন্টের (জিআর-৭৯/১৫) আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়। কিন্তু ওয়ারেন্টের আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। তিনি সুজলপুর হঠাৎপাড়ার মৃত নুরুল হাওলাদারের ছেলে। অথচ আটক মিজানুর রহমানের পিতার নাম মৃত নুরুল ইসলাম। তার বাড়িও ভিন্ন স্থানে। আটকের সময় দিনমজুর মিজান এ জন্য বারবার আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) দেখাতে চাইলেও তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে আনেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরদিন মঙ্গলবার জিআর-৭৯/১৫ মামলার ওয়ারেন্টে প্রকৃত আসামি মিজানের পরিবর্তে তাকে আদালতে সোপর্দ ককরা হয়। এ সময় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। এদিকে উল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে রাতে সাংবাদিকরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও কোতয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বলেন। এছাড়া গতকাল এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। ফলে টনক নড়ে পুলিশ প্রশাসনের। দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, তার নির্দেশে রাতেই (মঙ্গলবার) ওসি মো. মনিরুজ্জামান ওই এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেছেন। এ সময় সেখানে ৪ জন মিজানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যাদের পিতার নাম ও পদবি ভিন্ন। তাছাড়া এএসআই আল মিরাজ খান যে মিজানুর রহমানকে আটক করেছেন তিনি ওয়ারেন্টের প্রকৃত আসামি নন বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল দাবি করে তিনি বলেন, নির্দোষ মিজানুর রহমান যাতে মুক্তি পান সেজন্যে যথাযথ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ওসি মো. মনিরুজ্জামান ও এএসআই আল মিরাজ খানকে তার সাথে দেখা করে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান আটক দিনমজুর মিজানুর রহমানকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মিজানুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। কারাগার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভাগ