যশোরে পদযাত্রায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত:বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত পদযাত্রায় দলের খুলনা বিভাগী ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন। তাই ফ্যাসিস্ট সরকার নিজের পতন ঠেকাতে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো-পাতানো মামলায় প্রহসনের বিচারে কারারুদ্ধ করে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।
শনিবার পদযাত্রার আগে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর জনগণ তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে দেন। বেগম খালেদা জিয়া জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তী ২০০১ সালে জনগণের রায়ে আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে তিনি দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। কিন্তু দেশি বিদেশি চক্রান্তের ফলে ১/১১’র অসাংবিধানিক সরকার বিরাজনীতিকরণের লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার নামে দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ এনে ৫ টি মামলা দায়ের করে। সেই অসাংবিধানিক সরকার আজকের অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর নামেও ১৫টি মামলা দায়ের করে। কিন্তু তারা সেদিন ১/১১’র অসাংবিধানিক সরকারের সাথে আতাত করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী আইনজীবীদের বিচারক নিয়োগ করে। সেই বিচারক দিয়ে নিজেদের মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। বেগম খালেদা জিয়া,তারেক রহমানের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা ভিত্তিহীন,বানোয়াট মামলার কার্যক্রম তড়িৎ গতিতে চালাতে থাকে। আর সেই মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাবন্দি করে। আজ দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। যেখানে ন্যায্য বিচারের কারণে একজন প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। আর অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে সাজানো-পাতানো মামলায় প্রহসনের বিচার করার কারণে বিচারককে প্রমোশন দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনবে। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারেক রহমানের এক দফা ঘোষণা করেছেন। এটি জনগণের মুক্তির সনদ। দেশের জনগণ এক দফার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে দূরে রাখতে তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু,সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ূব,আবুল হোসেন আজাদ,জেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন,অভয়নগর উপলেজলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারাজি মতিয়ার রহমান,যশোর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু,সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন,চৌগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম,শার্শা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান মধু,বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান,কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস,মনিরামপুর পৌর বিএনপির সভাপতি খায়রুল ইসলাম,জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা রহমান,জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। যশোর শহরের রেল রোড, চৌরাস্তা মোড়, আর এন রোড, মণিহার হয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কস্থ যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড.মো.ইসহক, গোলাম রেজা দুলু,মো.মুছা,আব্দুস সালাম আজাদ,মিজানুর রহমান খান,এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু,মারুফুল ইসলাম,অ্যাড.হাজী আনিছুর রহমান মুকুল,মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু,কাজী আজম,সিরাজুল ইসলাম,নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ,সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম,ফারুক হোসেন,সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক,আশরাফুজ্জামান মিঠু,মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড.শহীদ ইকবাল হোসেন,কেশবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান,বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুর রহমান,ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোর্ত্তজা এলাহী টিপু,অভয়নগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু,জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক উপাদ্যক্ষ মকবুল হোসেন,সদস্য সচিব শিকদার সালাহ উদ্দিন,জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন টেনিয়া,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি, জেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।

Lab Scan