যশোরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের সহিংসতা বেড়েই চলেছে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে যশোরে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। সবগুলোই ঘটেছে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। নির্বাচন অফিস ও আহতদের স্বজনরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৩ জন নির্বাচনী কর্মী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরা হচ্ছেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের কায়বা ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪৫), চালিতাবাড়িয়া গ্রামের হাসান ওহিদ আহমেদ টল্টু (৫২) ও দরিদূর্গাপুর গ্রামের সামছুদ্দিন (৫৫)। আহত সকলেই আওয়ামী লীগের কর্মী। শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চালিতাবাড়িয়া বাজারে মাগরিবের নামাজ পড়ে তারা ট্রাক মার্কার অফিসে বসেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের মনেনীত নৌকা প্রতীকের শেখ আফিল উদ্দিনের কর্মী শামীম, জাহাঙ্গীর, কাজল, মিঠুসহ ১৪/১৫ জন এসে ট্রাক মার্কার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায় এবং তাদের লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে। এতে ৪ জন আহত হন। আহতদের ভেতর শফিকুল ইসলাম ও হাসান ওহিদ টল্টুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর ২ জন দিঘা গ্রামের আবু তালেব ও (৫২) আব্দুল আলীম (৫৮)। তারা অপেক্ষা কত কম আহত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হননি। এর আগের দিন বুধবার রাত ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের আশরাফুল আলমের নির্বাচনী কর্মীর হামলায় আহত হন দরিদূর্গাপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ সভাপতি সামছুদ্দিন (৫৫)। সাড়াতলা বাজার থেকে ‘নৌকা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথের মাঝে তেবাড়িয়া গ্রামে পৌঁছুলে “ট্রাক” সমর্থক ওই গ্রামের রাজাসহ ৪/৫ জন সামছুদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। তাদের বেদম প্রহারে তিনি আহত হন। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হন। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামছুদ্দিনের বাড়ি দরিদূর্গাপুর গ্রামে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর-৫ আসন মনিরামপুরের খেদাপাড়া বাজারে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মোঃ ইয়াকুব আলীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার গাড়িতে ‘নৌকা’ প্রতীক লাগিয়ে দিলে এ ঘটনা ঘটে। এ দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুড়োগাছা বাজার থেকে হেলাল হোসেন নামে ছাত্রলীগ সদস্যকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি রোহিতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য। গত ২৬ ডিসেম্বর যশোর সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী রওশন আলীকে (৬০) স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা বেদম প্রহার করলে তিনি আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রওশন আলী “নৌকা” প্রতীকের কর্মী। অনুরূপ তাকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কম-বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সবই ঘটেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত “নৌকা” প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

Lab Scan