যশোরে ডাকাত আতঙ্ক

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে কয়েকদিনের ব্যবধানে ৬ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সর্বত্র চরম আতঙ্কের বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে দুটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করলেও লুট হয়ে যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের আটক ও মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গত ১৬ অক্টোবর রাতে বাঘারপাড়া উপজেলার আদমপুর গ্রামের কাছেদ মোল্লা ও সোহেলের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। একদল দুর্বৃত্ত দুই বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এর পরদিন ১৭ অক্টোবর রাতে করিমপুর গ্রামের দলিল লেখক শহিদ মোল্লার বাড়িতে অনুরূপ দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। দুর্বৃত্তরা পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ লক্ষাধিক টাকা ও দুটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। ১৯ অক্টোবর ভোররাতে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম জহিরুল হক লিখনের বাড়িতে হানা দিয়ে ডাকাত দল ৩৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ দেড় লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও দুটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। ৩০ অক্টোবর ভোরে মণিরামপুর উপজেলার ভান্ডারির মোড় সংলগ্ন নালেরকান্দা গ্রামের জনৈক কাশেম আলীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল বাড়ির লোকজন বেঁধে রেখে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর আগেরদিন সদর উপজেলার তফসীডাঙ্গার ট্রাক্টর ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে হানা দেয় হাফপ্যান্ট পরা ডাকাতদল। তারা পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে নগদ ৮৬ হাজার টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। তবে ৬ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট থানায় এ সংক্রান্তে ২টি মামলা হয়েছে। বাঘারপাড়ার দলিল লেখক শহিদ মোল্লার বাড়িতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানা পুলিশের ওসি ফিরোজ উদ্দিন জানান, ওই বাড়ি থেকে লুট হয়ে যাওয়া ২টি মোটরসাইকেল ডাকাতরা অন্যত্র ফেলে যাওয়ায় তা উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ৪ জনকে তারা ইতোমধ্যে আটক করেছেন। এছাড়া লুট হয়ে যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভয়নগরের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম জহিরুল হক লিখনের বাড়িতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানা পুলিশের ওসি এ কে এম শামীম হাসান জানান, লুট হয়ে যাওয়া ২টি মোটরসাইকেল ডাকাতরা ফেলে যাওয়ায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, ডাকাতির সাথে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটকের পর রিমান্ডে নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জেলা পুলিশের মিডিয়া সমন্বয়কারী ডিবি’র ওসি রূপণ কুমার সরকার জানান, প্রতিটি ডাকাতির সাথে জড়িতদের আটকের জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করছেন, শিগগির ডাকাতদের আটক করতে পারবেন।
এদিকে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে বাঘারপাড়ায় ৩ বাড়িতে, অভয়নগরে ১ বাড়িতে, মণিরামপুরে ১ বাড়িতে এবং যশোর সদরে ১ বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ তার জানমাল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

 

 

 

Lab Scan