যশোরে আলু ও পেঁয়াজের দামে বিস্তর ফারাক পাইকারি ও খুচরা বাজারে

0

আকরামুজ্জামান॥ যশোরে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে আলু ও পেঁয়াজের দাম বিস্তর ফারাক। খুচরা বাজারে আলু-পেঁয়াজের এই নিয়ন্ত্রণহীন দামে ভোক্তাদের অভিযোগ সামনে রোজার মাসকে টার্গেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে এ দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি জোরদারের দাবি জানান তারা। যশোর শহরের বড়বাজারের হাটখোলা রোড আড়ৎপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকেজি ভালো মানের আলু পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা। অথচ মাত্র ২শ থেকে ২৫০ গজ দূরে একই বাজারে খুচরা দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে। একই অবস্থা পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও। একই বাজারে পাইকারি দরে প্রতিকেজি ভালো মানের পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি পাইকার ও খুচরা বাজারে দামের এ বিস্তর ফারাক থাকলেও দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ প্রতিনিয়তই খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর। হাটখোলা রোডে আড়ৎপট্টির যশোর এজেন্সির মিন্টু সরদার বলেন, বৃহস্পতিবার যশোরে প্রতিকেজি ভালো মানের আলু বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা কেজি দরে। একই বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি। আর কিছুটা কম মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে কেনো দামের এ পার্থক্য এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাইকারি ব্যবসায়ী যে দামে পেঁয়াজ ও আলু কিনছি তার থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করছি। তবে কেনো খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে তা তারাই ভালো জানে।
একই বাজারে কথা হয়, নিউ আমিন অ্যান্ড সন্সের বাদশা মিয়া ও আব্দুল হকের সাথে। এই দুই ব্যবসায়ী বলেন, গত সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর বড় কারণ হচ্ছে বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহ কমে দাম বাড়ে। তবে প্রথম দফা দাম বাড়ার পর থেকে পাইকারি বাজারে দাম স্থিতি রয়েছে। তারা বলেন, খুচরা বাজারে পেঁয়াজের বা আলুর দাম কত বিক্রি হচ্ছে তা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা নির্ধারিত দামেই পেঁয়াজ ও আলু বিক্রি করছি। বড়বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, এই বাজারে প্রতিটি দোকানেই প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও আলু ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এখন আমি কম বিক্রি করবো কী করে। বাজারের ব্যবসায়ীরা যেভাবে দাম নির্ধারণ করেন সেইভাবেই আমাদের বেচাকেনা করতে হয়। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারের সাথে আমাদের হিসেব করলে হবে না। আমরা এখানে মাল বিক্রি করতে গেলে অনেক খরচ গুনতে হয়। শ্রমিক, পরিবহন, খাজনাসহ অনেক খরচ যোগ হয়। এ কারণেই খুচরা ও পাইকারি বাজারের এ দামের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। তবে ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের এসব কথার সাথেও মোটেও একমত নন। রাজিবুল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, মাত্র ২শ থেকে ২৫০ গজ দূরের পাইকারি বাজার থেকে হাত বদল হয়ে খুচরা বাজারে এসে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়া রীতিমত অস্বাভাবিক। এটি কোনো প্রকার মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, আমরা যারা ভোক্তা তারা সবাই অসহায়। বাজারে আলু পেঁয়াজের দাম শুধু নয়, প্রায় সব জিনিসের দাম বাড়ছে পাগলা ঘোড়ার দৌড়ের মত। অথচ দেখার কেউ নেই। বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রক বা কর্তা আছে কিনা তা আমরা ভোক্তারা জানি না। প্রায় একই রকম ক্ষোভ ঝাড়েন শাহিনুর রহমান নামে একজন ক্রেতা। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। শীতের মৌসুমেও আমরা চড়া দামে সবজি কিনে খেয়েছি। তারা একবার করোনার দোহাই, আবার কখনও বৃষ্টির দোহাই দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে আসছে। এখন রোজার এক থেকে দেড় মাস আগেই সিন্ডিকেট করে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় আমাদের মতো মানুষের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাজারের এ অরাজক পরিস্থিতির জন্য সরকারি তদারকির অভাবই মুল কারণ। এ বিষয়ে যশোর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন,বাজার নিয়ন্ত্রণে আমরা সব সময়ই আন্তরিক। পাইকার ও খুঁচরা বাজারের দামের পার্থক্যের বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, রোজার মাসকে টার্গেট করে ব্যবসায়ীরা যাতে জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

Lab Scan