যশোরে আরও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসায় পৃথক দুটি ওয়ার্ড

বিএম আসাদ ॥ ডেঙ্গু জ্বরে ২০ দিনে সাড়ে তিন শতাধিক রোগী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতলে ভর্তি হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ রোগীদের চিকিৎসার জন্যে দুটি পৃথক ওয়ার্ড চালু করেছেন। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজতর হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দু’শিশুসহ ৭ জন নতুন রোগী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তরা হচ্ছেন যশোর শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকার তরিকুল ইসলামের কন্যা তন্বি খাতুন (১৮), সদর উপজেলার রাজারহাটের নজরুল ইসলামের পুত্র আল-আমিন (৩১), মনিরামপুরের জামাল হোসেনের পুত্র সেলিম (৩৮), বাসুদেবপুরের নিজাম উদ্দিনের পুত্র শুভ (১৭), চৌগাছা উপজেলার সলুয়া গ্রামের মোস্তাক হোসেনের পুত্র মো. ফিরোজ (২৪), বাঘারপাড়ার রাজুর পুত্র পলাশ (৮)। এর আগে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৪০ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যশোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন ও পুরনো রোগী নিয়ে ৩৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ৪৭ জন। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর সংখ্যা ৮০ জন। অন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৯২ জন। ছাড়পত্র নেন ৩৪ জন রোগী। গত ২১ জুলাই হতে ৯ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় ৩শ’ ৫০ জন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নির্ধারিত ২৫০ শয্যার বিপরীতে ডেঙ্গু ও সাধারণ মিলে প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগী অবস্থান করছেন। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড ও পুরুষ-মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী থাকার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছিল। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬টি বেডের বিপরীতে গতকাল ৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও একই অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কাজে একটি বিশৃঙ্খলা পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছিল। রোগীদের দুর্দশা লাঘবে গতকাল ৩য় তলর বৃহৎ কনফারেন্স রুমটি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিশু ও মহিলাদের পৃথক ওয়ার্ড করা হয়েছে। এর আগে পুরুষ পেয়িং ওয়ার্ডটিও ডেঙ্গু রোগীদের জন্যে নির্ধারণ করা হয়। এতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া কিছুটা হলেও সহজ হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় প্রবেশ পথেও মেঝেই রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ওয়ার্ডে গতকাল মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৫ জন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসার ফলোআপ করার জন্য হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সর্বক্ষণ খোলা রাখা হয়েছে। এনএস-১, আইজিজি, আইজিজিএম-সিবিসি বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে- যাওয়ায় দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ থেকে হাসপাতালে ডেঙ্গুর সকল পরীক্ষা হবে। ডেঙ্গু রোগীর র্পূণাঙ্গ পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূরেল্য করা হবে বলে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, এতদিন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে তারা চিন্তায় ছিলেন। বেসরকারিভাবে সহযোগিতা নিতে হয়েছে। এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। ৩০ বেডের প্রতি হাসপাতালে ১ লাখ টাকা, ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২ লাখ টাকা, ১শ’ শয্যা হাসপাতালে ১০ লাখ টাকা ও ২০ শয্যা হাসপাতালে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১০ লাখ টাকা, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোরের ৭টি উপজেলা হাসপাতালে ২ লাখ টাকা করে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাকীতে কীটস ক্রয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যশোরের সিভিল সার্জন। প্রতিটি কীটসের মূল্য ৩শ’ ৫০ টাকা। সে মোতাবেক প্রতিটি রোগীকে ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষা করতে সাড়ে ৩শ’ টাকা খরচ হচ্ছে। সরকারিভাবে ও বেসরকারিন উদ্যোগে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এখন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্ষম হবে বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।

ভাগ