যশোরে আরও এক দফা বাড়ল চালের দাম বাজারে ৫০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে এ সপ্তাহে আরও এক দফা সরু চালের দাম বেড়েছে। আমন ধানের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে পারছেন না ভোক্তারা। ভোক্তাদের অভিমত সরকারের নজরদারির অভাবে হাট-বাজারে ধান চালের নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন সরকার ধান-চাল কেনা শুরু করেছে। তাই হাটে ধানের দাম বেশি, এ কারণে ভরা মৌসুমেও বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

এদিকে, বাজারে সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে মোটেও নামছে না। বরং কোনো কোনো সবজি ৫০ টাকারও অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন সরবরাহ বেড়ে আগামী সপ্তাহ থেকে বাজার সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। যশোরের বড়বাজার চাল বাজারে এ সপ্তাহে সরু চালের দাম প্রতি কেজিতে আরও ২ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর আগে গত সপ্তাহেও সরু চালের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। গতকাল শুক্রবার মিনিকেট চাল ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

যা গত সপ্তাহে দর ছিল ৫৪ টাকা। আর তার আগের সপ্তাহে ছিল ৫২ টাকা। গতকাল বাংলামতি চাল বিক্রি হয়েছে ৬৪ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬২ টাকা। আর তার আগের সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। গতকাল কাজললতা বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। তবে মোটা চালের দাম এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৪২-৪৩ টাকায়। চালের দাম বাড়ার বিষয়ে যশোর চাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ^াস জানান, হাটে বর্তমানে প্রতি মণ ধান ১৪শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, তাছাড়া সরকার ধান-চাল কেনা শুরু করেছে। এ কারণে ভরা মৌসুমেও বাজারে চালের দাম কমার পরিবর্তে বাড়ছে।

তবে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন সপ্তাহিক বাজার করতে আসা জনৈক চাকরিজীবী আব্দুল আউয়াল বলেন, এখন আমন মৌসুম চলছে, বাজারে চালের দাম কম হওয়ার কখা, অথচ প্রতিনিয়ত উল্টো চালের দাম বাড়ছে। তিনি হাট-বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দাবি করে আরও বলেন, ধান-চালের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট। এদিকে বড়বাজারে কোনো ভালো সবজি ৫০ টাকার নিচে মিলছে না। গতকাল শুক্রবার গাজর বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা,বেগুন ৬০টাকা, শিম ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা ও ঢেঁড়স ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা সবজি বিক্রেতা আল-আমিন জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেশি। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে কৃষকের সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবারাহ কমে গেছে। এইচএমএম রোডে আড়তদার ‘আরিফ ভাণ্ডার’ এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর জানান, কৃষকের লাগানো নতুন সবজি আগামী সপ্তাহে বাজারে চলে আসবে। তিনি আশা করেন সামনের সপ্তাহে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

Lab Scan