যশোরে আটক আলোচিত লিপি’র অত্যাচারে আত্মহত্যা করেন পিতা

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরে পুলিশের হাতে আটক পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো আলোচিত লিপি খাতুন রুমানার বাড়ি চৌগাছা উপজেলার মাধবপুর গ্রামে। তবে তিনি মাশিলা গ্রামে দুলাভাইয়ের বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। গতকাল বৃহষ্পতিবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, লিপি খাতুন অনেক আগে থেকেই মাদক ব্যবসায় জড়িত। এলাকায় ‘কলগার্ল’ হিসেবে তিনি পরিচিত। বিভিন্ন সময় স্বামী পরিচয় দিয়ে যুবকদের সাথে নিয়ে নামি-দামি গাড়িতে করে তিনি বাসায় আসতেন। সর্বশেষ যশোর নুরপুরের এক যুবককে স্বামী পরিচয় দিয়ে মাশিলায় এনে বাবার জন্য মিলাদ দেন তিনি। পরে আরও একদিন ওই যুবককে সাথে নিয়ে গ্রামে আসেন লিপি। এরপর আর তাদের দেখা যায়নি।
সূত্র মতে, লিপি খাতুন গ্রামে বেশিদিন না থাকলেও এলাকার মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সাথে তার রয়েছে গভীর সখ্যভাব। মাধবপুর গ্রামের আবু হানিফ (লিপির বাবা) স্ত্রী ও কন্যার (লিপি) অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেন। পিতার মৃত্যুতে এ পরিবারটি অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে। গত তিন বছর আগে তার মাও বেছে নেন আত্মহত্যার পথ। লিপির এক বোন বিয়ে দেয়া ছিল মাশিলা গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেন আশা’র সাথে। মূলত সেখানেই লিপিরা মানুষ হয়েছেন। পরে তাদের নানা অপকর্মের জন্য বোনকে তালাক দেন আশা। তালাকপ্রাপ্ত ওই বোনের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। একসময় লিপিরা ৪ বোন মাশিলায় বোনের বাড়িতে বসবাস করতেন। এখন কোন বোনই সেখানে থাকেন না। বর্তমানে সবাই লিপির সাথে থাকেন যশোরে। এলাকার মানুষ জানে তারা সবাই খারাপ কাজে জড়িত। আলোচিত লিপির নানার বাড়ি চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। এ ব্যাপারে স্বরুপদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি যতদূর শুনেছি, পরিবারটি সম্পর্কে এলাকাবাসী ধারণা ভালো ছিলো না। তারা মা মেয়ে সকলেই মাদক ব্যবসা ও খারাপ কাজের সাথে জড়িত ছিল। এক কথায় তাদের চলাফেরা ভাল ছিল না’।

ভাগ