যশোরে আজও উচ্ছেদ হয়নিবাংলা মদের অবৈধ দোকান

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ যশোর শহর থেকে বাংলা মদের অবৈধ দোকানগুলো এখনও উচ্ছেদ করা হয়নি। শহরের একটি মাত্র বৈধ দোকান থেকে বাংলা মদ কিনে ওই দোকানিরা প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন। মদের এই দোকানগুলো গড়ে উঠেছে বড়বাজারে দুটি পতিতালয়কে ঘিরে। এছাড়া ডোম এবং মেথরপট্টিতেও প্রতিদিন বাংলা ও চোলাই মদের জমজমাট বিকিকিনি চলছে।
গত ২৩ জুন দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় যশোর শহরে বাংলা মদের অবৈধ দোকান সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শহরের কোথায় কোথায় এবং কারা এসব দোকানে মদ বিক্রি করেন তাদের নামও উল্লেখ ছিল প্রতিবেদনটিতে। সে সময় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবুল হোসেন লোকসমাজকে জানিয়েছিলেন, যশোর শহরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একমাত্র বাংলা মদের দোকানের মালিক ইয়াকুব কবির। তিনি শুধুমাত্র পারমিটধারীদের কাছে মদ বিক্রি করতে পারবেন। তবে পারমিটধারীরা কেউ মদ কিনে বিক্রি করতে পারবেন না। তিনি জোরালোভাবে বলেছিলেন, ‘আমরা অবৈধ বাংলা মদের দোকানগুলো একেবারে বন্ধ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ অথচ তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও তিনি দোকান বন্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে বহাল তবিয়তে চলছে মদের অবৈধ ব্যবসা।
অভিযোগ রয়েছে, এই দোকানিদের সাথে মহলবিশেষের রয়েছে আর্থিক চুক্তি। যে কারণে তারা বুক ফুলিয়ে ব্যবসা করার সাহস পাচ্ছেন। অন্যদিকে যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখের সামনে অবৈধ এ ব্যবসা চললেও অজ্ঞাত কারণে তারা রয়েছেন নীরব।
গত ১১ জুলাই অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবুল হোসেনের সাথে এ বিষয়ে আবারও কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তার কাছে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যশোর অফিসে কর্মরত পরিদর্শক ও উপপরিদর্শকদের অভিযান পরিচালনার কথা বলেছি।’ তিনি এই প্রতিবেদককে যশোর অফিসের পরিদর্শক মো. হেলালউদ্দিনের সাথে কথা বলার জন্য বলেন। কিন্তু এদিন বিকেলে ওই পরিদর্শকের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তার ফোন সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, গত বছর যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নাজমুল কবিরকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলায় বাংলা মদের ব্যবসায়ী যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার বাসিন্দা শেখ মহব্বত আলী টুটুলের লাইসেন্স নবায়ন করতে তিনি ২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। এ অভিযোগে ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি টিম তাকে ওই টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেন। তখন তাকে বরখাস্ত করা হয়। যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের অবর্তমানে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবুল হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতিরিক্ত পরিচালক সপ্তাহে তিনদিন যশোর অফিসে বসেন। যশোর অফিস প্রধান (উপপরিচালক) বরখাস্ত থাকা এবং দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত পরিচালক আবুল হোসেন ঠিকমত সময় দিতে না পারায় যশোর অফিসের পরিদর্শক ও উপপরিদর্শকরা অবৈধ মদের দোকানগুলো উচ্ছেদে কোনো ভূমিকা রাখছেন না।
প্রসঙ্গত, যশোর শহরের বড়বাজার হাটখোলা রোডে মাড়–য়া মন্দির সংলগ্ন পতিতালয়ের সামনে ইয়াকুব কবিরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একমাত্র বাংলা মদের দোকান অবস্থিত। তার দোকানের আশপাশে রয়েছে বাংলা মদের লাইসেন্সবিহীন কয়েকটি দোকান। এগুলোর মালিক হলেন-হাসান, পিন্টু, সাজু, বাবু, চানমিয়া, সাধন, কুটি, কৃষ্ণ, সুলতান, মনি, কালীদাস, রতন প্রমুখ। অপরদিকে হাটখোলা রোডের বাবুবাজার পতিতালয়ের সামনে অবৈধ বাংলা মদের দোকানিরা হলেন, সফি, মন্টু সাহা, শহিদ, রশিদ, জাকির, মোতালেব, মহসিন, কুরবান প্রমুখ। এছাড়া শহরের এমকে রোডের ডোমপট্টিতে বাংলা মদ বিক্রি করেন পান্না, মতিলাল, রাজু, সুজন, বদরু, জনি, কালা, রুবেল, দাবালিয়া ও সর্জেনসহ বেশ কয়েকজন। রেলরোডের মেথরপট্টিতেও রয়েছে বেশ কয়েকটি বাংলা ও চোলাই মদের দোকান। যাদের সবকটিই অবৈধ।

ভাগ