যশোরে অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই পুলিশের

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলায় পুলিশের অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে । কোন ঘটনা ঘটলেই শুধুমাত্র তৎপর হয়ে ওঠে তারা। তাও আবার হত্যা অথবা বড় ঘটনাগুলোতে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশগুলোর কোন তৎপরতা চোখে পড়ে না। যত ব্যস্ততা চোখে পড়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের। চুরির ঘটনা থেকে শুরু করে আলোচিত সব ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আটকে শুধু তাদেরই দেখা যায়। গ্রাম ও শহর এলাকায় চোখে পড়ে না পুলিশের কোন টহল। যার ফলে বেড়েছে অপরাধ। অবনতি ঘটেছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে এমনিতেই মানুষ অতিষ্ঠ। তারওপর কয়েক মাস হলো ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পাড়া -মহল্লায়ও সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর থেকে মোড়ে মোড়ে এরা জটলা করে থাকে। তাদের অধিকাংশের কাছে রয়েছে বার্মিজ চাকু। তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষ অথবা নিরীহ লোকজনকে ছুরিকাঘাত করতে পিছপা হচ্ছেনা এরা। এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে এসব সন্ত্রাসী। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কতিপয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিচ্ছেন। সম্প্রতি যশোর শহরের বারান্দীপাড়া খালধার রোড এলাকার অপু খুন হওয়ার পর একজন পৌর কাউন্সিলর ওই এলাকার দায়িত্ব দিয়েছেন টমি নামে এক সন্ত্রাসীকে। পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাসীদের আড্ডাস্থলে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে যুবলীগ অথবা ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড।  গত ২৩ অক্টোবর দুপুরে যশোর সরকারি এম এম কলেজে পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে আসাদ হলের সামনে সন্ত্রাসীদের হাতে ছুরিকাহত হন এইচএসসি বাণিজ্য প্রথম বর্ষের ছাত্রী অর্পিতা। কিন্তু পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি। গত ৪ নভেম্বর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখহাটি গ্রামের জামতলায় স্ত্রীর চোখে লেজার লাইট মারার প্রতিবাদ করায় ছুরিকাহত হন শাকিল নামে এক যুবক। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই যুবকের পরিবার মামলা করতে সাহস পাননি। প্রায় এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে এ জেলায় । এই সন্ত্রাসীরা অধিকাংশই মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতা। মোটরসাইকেলে করে অথবা ইজিবাইকচালকের বেশে ফেরি করে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেনসিডিলের ব্যবসা করে থাকে এসব অপরাধীরা। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না শান্তিপ্রিয় মানুষ। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকায় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। পাড়া-মহল্লায় এক প্রকার প্রকাশ্যে মাদক বিকিকিনি ও সেবন চলছে। ইয়াবা বিক্রির একাধিক সিন্ডিকেট তৎপর যশোরে। শহরতলীর বিরামপুরে এক সন্ত্রাসী বাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে পুলিশকে পাহারা দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করছে। যশোরে ডাকাতি এবং বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজন হারে বেড়ে গেছে। সম্প্রতি যশোরের বিভিন্ন এলাকার ৬টি বাড়িতে এবং ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঝিকরগাছায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতিকালে দুর্বৃত্তদের হাতে একজন নৈশ প্রহরী খুন হয়েছেন। বাড়িঘর তালা দিয়ে রেখে কোথাও বেড়াতে যাওয়া অথবা প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাইরে গেলে ক্ষতির শিকার হতে হয় লোকজনকে। জানালার গ্রিল অথবা দরজার তালা ভেঙে সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে চোরচক্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যশোরে পুলিশের নিয়মিত টহল ব্যবস্থা নেই। অপরাধী দমনেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। চাকুর ঝনঝনানি দমনে পুলিশ সম্প্রতি অভিযান চালালেও সফলতা আসেনি। একই অবস্থা মাদক ব্যবসায় ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশের নমনীয় অবস্থানের কারণে যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এমন অবস্থায় জেলার থানা ও ফাঁড়িগুলোর কোন ভূমিকা না থাকাকে বিস্ময়কর বলে মনে করেন সচেতন মানুষ। তাদের অভিমত যশোর শহরের ফাঁড়িগুলো তৎপর হলে মাদক বিকিকিনি ও সন্ত্রাস থাকার কথা নয়। একই অবস্থা উপজেলাগুলোতে। পৌর এলাকায় অথবা ইউনিয়নগুলোতেও অতিসম্প্রতি চোখে পড়তো রাতে পুলিশের টহল। আকস্মিকভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং পুলিশের নিয়মিত টহল ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের মিডিয়া সমন্বয়কারী ডিবির ওসি রূপণ কুমার সরকার জানান, পুুলিশ অপরাধ দমনসহ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটকে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করতে তিনি থানার ওসিদের সাথে কথা বলবেন জানান। বলেন, এছাড়া ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের আটকে তাদের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

 

Lab Scan