যশোরে অজ্ঞান পার্টির কবলে তিনজন লক্ষাধিক টাকার মালামাল খোয়া

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে কলেজ শিক্ষকসহ তিনজন সর্বস্ব খুঁইয়েছেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবইল ফোনসহ লক্ষাধিক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। অজ্ঞান পার্টির শিকার ব্যক্তিরা হলেন- ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সদুল্যাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের পুত্র মনিরুজ্জামান (৩০), ঝিকবরগাছা উপজেলার স্বরূপপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার পুত্র উজ্জ্বল হোসেন (৪০) ও ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পাঁচু বিশ্বাসের পুত্র আমিরুল ইসলাম (৩৩)।
মনিরুজ্জামান জনিয়েছেন, তিনি ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে লেকচারার হিসেবে চাকরি করেন। পরিকল্পন মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকায় প্রশিক্ষণ চলছে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হানিফ পরিবহনযোগে যশোরে আসছিলেন। পথের মাঝে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে রুটি ও চা খাওয়ার পর অসুস্থতা বোধ করলে তিনি বাসে উঠে বসেন। এরপর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা, মূল্যবান স্মার্ট ফোনসহ ব্যাগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে কে বা কারা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এনে ভর্তি করে দেন। হাসপাতালে চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরে আসলে মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
অপরদিকে, মধুখালী থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসযোগে আমিরুল ইসলাম যশোর আসছিলেন। তখন বাসের ভেতর দুর্বৃত্তরা কৌশলে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে এবং তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা পািলয়ে যায়। যশোরে আসার পর বাসের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, আমিরুল ইসলাম ছাগল ব্যবসায়ী। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাগল কিনে তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিক্রি করেন। এছাড়া গতকাল খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের পাশে পেয়ারা কিনে খাওয়ার পর উজ্জ্বল হোসেন সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। পরে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তার কাছে কত টাকা ছিল তা বলতে পারেননি স্বজনরা। জ্ঞান ফিরল সব জানা যাবে উল্লেখ করে উজ্জ্বল হোসেনের চাচা ওলিয়ার রহমান বলেন, একটা মোটরসাইকেল ক্রয় করার জন্য বেলা ১১টার দিকে উজ্জ্বল হোসেন খুলনায় গিয়েছিল।
সূত্র জানিয়েছেন, শুধু মনিরুজ্জামান, আমিরুল ইসলাম কিংবা উজ্জ্বল হোসেন না। যাত্রীরা যশোর-ঢাকা ও যশোর-খুলনা রুটে বাসের ভেতর অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ছেন এবং নগদ টাকা ও মালামালসহ সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে তারা পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। পুলিশ অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

Lab Scan