যশোরে অঘোষিত লকডাউন : দোকান-পাট বন্ধ কাঁচাবাজার খোলা, ক্রেতা নেই

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ করোনাভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে মানুষ এখন ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলছেন। এ এমন এক যুদ্ধ যা কিনা মানুষকে ঘরের মধ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। এ কারণে যশোরে লকডাউন ঘোষণা না দেওয়া হলেও প্রায় জনমানবশূন্য, দোকান-পাট বন্ধ তথা যশোরবাসী এখন ঘরবন্দী। করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ গত কয়েকদিন ধরেই বেশি বেশি নিত্যপণ্য কিনে মজুদ করেছেন।
যশোরের বড় বাজারে কাঁচাবাজার,মুদি দোকান ও মাছ বাজার খোলা থাকলেও কেনার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সকালের দিকে হাতেগোনা কিছু লোককে কাঁচাবাজার করতে দেখা গেছে। দুপুরের পরে বাজারে শুধু দোকানি আর লেবার ছাড়া কোনো ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিন সকালে বেশ কিছু সবজির দাম যথেষ্ট কমই ছিল। উচ্ছে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা, গত পাঁচ দিন আগেও যার দাম ছিল ৫০ টাকা। কুমড়োর কেজি বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা, এর আগে দাম ছিল ৩০ টাকা। টমেটো প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা, এর আগে দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। বেগুনও ৫ টাকা কমে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। ৬০ টাকার পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। ৬০ টাকার ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। ৬০ টাকার বরবটি ৪০ টাকা। আড়াই শ টাকার সজনে ডাটা বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায়। লাল শাক ১৫ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা,লাউ প্রতিটি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু, পেঁয়াজ, আদা-রসুনের সরবরাহ আছে। বৃহস্পতিবার সকালে আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, দেশি রসুনের কেজি বিক্রি ৭০ টাকা, আদা বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি। এদিন সকালে কিছু কাঁচাপণ্য ও মাছ বিক্রি হলেও মুদি দোকান ও চাল বিক্রেতাদের শুধু শুধু দোকান খুলে বসে থাকতে দেখা গেছে। একজন মুদি দোকানি জানান, গত দু চার দিনে ক্রেতারা এক একজন যে পরিমাণ মালামাল কিনেছেন তাতে করে আগামী দু মাস তাদের বাজারে না আসলে চলবে। চালের দোকানিরা ওই একই কথা শোনালেন। যারা ১০ কেজি,পাঁচ কেজি চাল কিনতেন, তারা কেই দু বস্তা এমনকি চার বস্তাও চাল কিনে ঘরে মজুদ করেছেন।

ভাগ