যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হুজুর ইয়াসিন খুন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গতকাল বুধবার রাতে যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন আরাফাত ওরফে হুজুর ইয়াসিন (২৮) খুন হয়েছেন। শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়াস্থ রেললাইন সংলগ্ন ব্রাদার্স ক্লাবঘরের ভেতর তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। এই হত্যাকা-ের জন্য নিহতের স্বজনেরা এলাকারই একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে দায়ী করেছেন। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তারা বলতে পারেনি। পুলিশ বলছে, কারা তাকে হত্যা করেছে তা তারা এখনো জানতে পারেনি।


স্থানীয়রা জানান, বেজপাড়া আকবরের মোড় এলাকার মাওলানা মনিরুজ্জামান ওরফে মনির মাওলানার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত রাত পৌনে ৮টার দিকে শংকরপুর চোপদারপাড়াস্থ রেললাইন সংলগ্ন ব্রাদার্স ক্লাবের ভেতর কয়েকজন সঙ্গীর সাথে তাস খেলছিলেন। এ সময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল সন্ত্রাসী সেখানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। সঙ্গীরা তাকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। রাজিব নামে একজন সঙ্গী চেয়ার ছুঁড়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। এসবের মধ্যে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে সঙ্গী রাজিবসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সালাউদ্দিন বাবু সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।


নিহতের পিতা মাওলানা মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সময় তিনি শহরের এমএম আলী রোডস্থ (বিদ্যুৎ অফিসের পাশে) মসজিদে ছিলেন। এ কারণে ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। নিহতের শ্বশুর শামীম আহমেদ মানুয়া অভিযোগ করেন, একই এলাকার স্বর্ণকার রানা ও তার ভাই রুবেলসহ একদল সন্ত্রাসী ক্লাবঘরের ভেতর ঢুকে ইয়াসিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি তার জামাইকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একটি সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী হুজুর ইয়াসিন ক্ষমতাসীন দলের একটি গ্রুপের আশ্রয়ে থাকতো। ক্ষমতাসীন দলের আরেকটি গ্রুপ তাদের আশ্রিত এলাকার সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। এলাকার একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী ইয়াসিনের জন্য প্রতিপক্ষরা এলাকার নিয়ন্ত্রণে সুবিধা করতে পারছিলোনা।
সূত্রের দাবি, এই হত্যাকা-ের সাথে স্বর্ণকার রানা, রুবেল, আইয়ুব ও সজীবসহ বেশ কয়েকজন জড়িত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের সঙ্গীরা তাদেরকে চিনতে পেরেছে।
যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম বলেন, প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা হুজুর ইয়াসিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। কিন্তু কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ তাসমীম আলম বলেন, হুজুর ইয়াসিনের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা রয়েছে এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে সন্ত্রাসী হুজুর ইয়াসিন খুন হওয়ার পর বেজপাড়া ও শংকরপুর এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, হত্যার প্রতিশোধ নিতে হুজুর ইয়াসিনের সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

Lab Scan