যশোরের পল্লীতে ডাকাতি, বোমা হামলায় জখম ১

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের বি-পতেঙ্গালী গ্রামের একটি বাড়িতে গত শনিবার দিবাগত রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা পরিবারের লোকজনকে বেঁধে রেখে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। পালিয়ে যবার সময় দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় সুমন গাজী (৩৭) নামে একজন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে দুর্বৃত্তদের কেউ আটক হয়নি। পল্লব ভট্টচার্য্য নামে একজন গ্রামবাসী জানান, রাত ২টার দিকে মুখবাঁধা ৬ জন ডাকাত আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও বোমা নিয়ে বি-পতেঙ্গালী গ্রামের বাসিন্দা কমল চক্রবর্তীর বাড়িতে হানা দেয়। পশ্চিমপাশের জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতর ঢুকে কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই ডাকাতরা প্রথমে কমল চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী অরুন্ধতীর হাত বেঁধে ফেলে। বাধা দেয়ায় ডাকাতদের একজন কমল চক্রবর্তীর মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। এরই মধ্যে কমল চক্রবর্তীর চিৎকারে তার ভাই শ্যামল চক্রবর্তীর স্ত্রী মৌসুমি পাশের ঘর থেকে বের হয়ে হলে তাকেও বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। পরে শ্যামল চক্রবর্তীর ঘরে ঢুকে তার হাত বেঁধে ফেলে তারা। এরপর ডাকাতরা কমল চক্রবর্তীর ঘর থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় ১৪ হাজার টাকা এবং শ্যামল চক্রবর্তীর ঘর থেকে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। তিনি আরো জানান, কমল চক্রবর্তীদের বাড়িতে ডাকাতরা হানা দিয়েছে এমন খবর জানাজানি হয়ে গেলে গ্রামবাসী এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাতরা বিষয়টি টের পেয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রামের মাঠের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। বোমার বিস্ফোরণে সুমন গাজী নামে একজন গ্রামবাসী গুরুতর জখম হন। সুমন গাজী একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বোমায় আহত সুমন গাজীকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে ডাকাতদের রডের আঘাতে আহত কমল চক্রবর্তী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খবর পেয়ে ওই রাতেই কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে পুলিশ ডাকাতির সাথে জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই আ ফ ম মুনরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে।

 

 

Lab Scan