যশোরের ডুমদিয়ার সন্ত্রাসীদের আটকের দাবিকে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের ডুমদিয়া গ্রামের চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে পুুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ শ শ গ্রামবাসী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে এই স্মারকলিপি পেশ করেন।
দেয়াড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল ওহাব সরদার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ও সিদ্দিকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, ডুমদিয়া গ্রামের আবু তালেব, তার ছেলে ইমন ওরফে মাদক ইমন, ইউসুফ, আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে মামুন, সাজু এবং মৃত সিদ্দিকের ছেলে শহিদুল ও মহিদুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তারা ডুমদিয়া ও নারাঙ্গালী গ্রামে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বহু অপরাধের সাথে জড়িত। প্রতিবাদ করায় গত ১ অক্টোবর তারা নারাঙ্গালী গ্রামের গোলাম রসুল, তুহিন, ফারুক ও মামুনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে পুলিশ ইমন ও ইউসুফকে আটক করলেও পরে জামিন পেয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ অন্যদের আটকে পদক্ষেপ নেয়নি। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়। শুধু তাই নয়, গত ২০ অক্টোবর সন্ত্রাসী ইউসুফ ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় গোলাম রসুলকে। কোতয়ালি থানার এসআই কামাল হোসেন ট্রাকটি আটক করলেও সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে দু দফায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেন। গ্রামবাসী আরও অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী ইমন গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে নারাঙ্গালী গ্রামের ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ছবি গোপনে তোলে। ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে ওই ছবি কুরুচিপূর্ণভাবে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। ফলে ছাত্রীর পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে। ফলে সন্ত্রাসীদের এহেন অত্যাচারে তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যে কারণে তারা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ বিষয়ে এসআই কামাল হোসেন জানান, গ্রামবাসী থানার ওসির কাছেও একই অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ সত্য নয়। কারণ তিনি ট্রাকটি ছেড়ে দেননি। কারো কাছ থেকে কোন টাকাও নেননি। বরং ওই ট্রাকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

ভাগ