যশোরের খড়কিতে যুবক খুন

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥  বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের খড়কি ধোপাপাড়ায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে ইরফান ফারাজী (২৫) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। তিনি যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, ইরফান ফারাজী নিরীহ প্রকৃতির। তার সাথে কারো কোনো বিরোধ ছিলোনা। তাকে কারা কী জন্যে হত্যা করেছে তা কেউ জানেন না। পুলিশ বলছে, হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, খড়কি ধোপাপাড়ায় নিজ বাড়ির কাছে ফারাজী স্টোর নামে মুদি দোকান রয়েছে ইরফান ফারাজীর। বিকেলে দোকানে বসেছিলেন তিনি। এ সময় ওই স্থানে লোকজনের চলাচলও কম ছিলো। হঠাৎ ৫/৬ জন যুবক তার দোকানে এসে তাকে বের হতে বলে। ইরফান ফারাজী দোকান থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় এলে যুবকদের একজন আচমকা তার বুকে ছুরিকাঘাত করে। সাথে সাথে ইরফান ফারাজী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এর পরপরই হামলাকারী যুবকেরা দৌড়ে স্থানীয় কবরস্থানের পাশের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শামছুর রহমান জানান, এসময় সেলিম নামে এক যুবক তাকে একটি রিকশায় উঠিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কবরস্থান এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে ৩ যুবক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারের চালক (লাল রঙের পোশাক পরা) তাদের দৌড়ে চলে যেতে দেখছেন। এর কয়েক সেকেন্ড পর আরো দুই যুবককে দৌড়ে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ৫ যুবক ইরফান ফারাজীকে হত্যার সাথে জড়িত। তারা তাকে খুন করে কবরস্থানের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। যা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।  নিহতের বড়ভাই ইমরান ফারাজী জানান, তার ভাইয়ের সাথে কারো কোনো বিরোধ ছিলোনা। তার ভাইকে কেন হত্যা করা হলো তা তারা জানেন না। কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, ওই যুবককে কারা হত্যা করেছে পুলিশ তা এখনো জানতে পারেনি। তবে হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
হত্যাকাণ্ডের পর কোতয়ালি থানার পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এ সময় স্থানীয় লোকজনের সাথে হত্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। নিহত ইরফানের বড় ভাই ইমরান ফারাজী এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইরফান ফারাজীরা ৪ ভাই ও ৫ বোন। ভাইদের মধ্যে ইরফান ফারাজীর মেজো। তিনি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন। বর্তমানে তিনি যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র। তার পিতা রফিক ফারাজীর বারান্দীপাড়া রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকায় টেম্পু গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে।

 

Lab Scan