যশোরের আলাউদ্দিনকে ধরে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের একটি চক্র চিহ্নিত করলো ডিবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ডিবি পুলিশ মূল চোর আটকের পর যে ফাঁদ পেতেছিলেন তা বুঝতে পারেননি চোরাই মোটরসাইকেল কারবারি নড়াইলের কালিয়ার মতিয়ার রহমান ওরফে মতি মেম্বার। তিনি চোরের কাছ থেকে চোরাই বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল নিতে ভাগ্নে ও ভাইপোকে পাঠিয়েছিলেন। আর ডিবি পুুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়ে যান তারা। কিন্তু সহযোগী ভাগ্নে ও ভাইপোকে আটক করলেও চোরাই মোটরসাইকেল কারবারিকে মতি মেম্বার রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ডিবি পুলিশ এখন তাকে খুঁজছে।
ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন জানান, যশোর সদর উপজেলার বোলপুর গ্রাম থেকে একটি টিভিএস মোটরসাইকেল এবং সুজলপুর থেকে একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন চুরি সংক্রান্ত দুটি মামলা তদন্ত করছেন তারা। এ দুটি স্থানে চুরির সাথে জড়িত আরবপুর কলুপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে আলাউদ্দিন। মোবাইল ফোন চুরি করে সেটি ব্যবহার করছিলেন আলাউদ্দিন। তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে যশোর শহর থেকে প্রথমে তাকে আটক করেন। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুটি স্থানে চুরির কথা তাদের কাছে স্বীকার করেন। এরপর তার কাছ থেকে জানা যায় আসল চোরাই মোটরসাইকেল কারবারির নাম। ওই কারবারির নাম মতি মেম্বার। নড়াইলের কালিয়ার উপজেলার মাথাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মতি মেম্বার তার (আলাউদ্দিনের) কাছ থেকে টিভিএস মোটরসাইকেল ছাড়াও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে চুরি করা একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল কিনেছেন। টিভিএস মোটরসাইকেল ৮ হাজার টাকায় এবং হোন্ডা মোটরসাইকেল সাড়ে ৭ হাজার টাকায় আলাউদ্দিনের কাছ থেকে কেনেন তিনি। এসময় চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও মতি মেম্বারকে আটকের জন্য তারা আলাউদ্দিনকে ব্যবহার করে ফাঁদ পাতেন। আলাউদ্দিনের মাধ্যমে তাকে চোরাই একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়। তাদের পাতা ফাঁদে পা দেন মতি মেম্বার। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা (ডিবি পুুলিশ) গত ২৮ সেপ্টেম্বর সাদা পোশাকে আলাউদ্দিনকে সাথে নিয়ে কালিয়ার কাছে একটি নদীর ঘাটে যান। তাদের কাছে একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল ছিলো। যেটি এএসআই আলমগীর হোসেনের নিজের। কিন্তু মতি মেম্বার না এসে চোরাই পালসার মোটরসাইকেল নিতে পাঠিয়ে দেন তার ভাগ্নে জুয়েল শিকদার ও ভাইপো ওবায়দুল্লাহকে। তাদেরকে মোটরসাইকেল নিয়ে সরাসরি খুলনার তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া গ্রামের গোলজার সরদারের ছেলে মুজাহিদ সরদারের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন মতি মেম্বার। কিন্তু ওই ঘাটে পালসার মোটরসাইকেল নিতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান জুয়েল শিকদার ও ওবায়দুল্লাহ। আটকের পর তারা জানান, মতি মেম্বার ঢাকায় রয়েছেন। পালসার মোটরসাইকেল হাতে পাওয়ার আগেই তিনি সেটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে মুজাহিদ সরদারের কাছে। এরপর আটক দু জনের স্বীকারোক্তিতে তেরখাদার আটলিয়ায় অভিযান চালানো হয়। আটক করা হয় মুজাহিদ সরদারকে। তার মা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মতি মেম্বারে কাছ থেকে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল কেনার কথা তিনি স্বীকার করেন। তিনি এও জানান যে, হোন্ডা মোটরসাইকেল ৪৫ হাজার টাকায় এবং টিভিএস মোটরসাইকেল ৪০ হাজার টাকায় কিনেছেন। মোটরসাইকেল দুটি গোপন স্থানে রেখে জাল কাগজপত্র তৈরি করতে দিয়েছেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে ওই দুটি মোটরসাইকেল ছাড়াও সেখান থেকে আরও একটি চোরাই এফজেড মোটরসাইকেল তারা উদ্ধার করেন। কিন্তু এফজেড মোটরসাইকেল তিনি কার কাছ থেকে কিনেছেন তার সঠিক উত্তর মেলেনি।
এসআই শামীম হোসেন জানান, আটক আলাউদ্দিন একজন পেশাদার চোর বলে তারা জানতে পেরেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। অপর আটক মুজাহিদ সরদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে আটক জুয়েল শিকদার ও ওবায়দুল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এক প্রশ্নের জবাবে এসআই শামীম হোসেন জানান, তারা অভিযানে মোট ৭ জনকে আটক করেছিলেন। অপর ৩ জনের কাছ থেকে চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। যা সুজলপুর থেকে চুরি হয়েছিলো। ওই ৩ জন ব্যবহারের জন্য আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন কিনেছিলেন।

ভাগ