যবিপ্রবির শিার্থীদের ওয়ার্কশপ নিরাপত্তাকর্মীদের আবাসস্থল !

যবিপ্রবি সংবাদদাতা ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিল্প উৎপাদন ও প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শেখার ওয়ার্কশপে নেই কোন যন্ত্রপাতি। সেখানে আবাসস্থল করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের (আনসারদের) ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিল্প উৎপাদন ও প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা বাজেটে প্রকৌশল ওয়ার্কশপটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি। নিদিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পর কাজ শেষ হলেও তা কোনো কাজে আসেনি শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া আইপিই বিভাগের ¯œাতক কোর্সে প্রকৌশল ওয়ার্কশপের ৪/৫টি কোর্স থাকে যার কোনকিছুই শিখতে পারে না শিক্ষার্থীরা। যার ফলশ্রুতিতে ¯œাতক পেরিয়ে যাবার পর কর্মক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন গ্রাজুয়েটরা।
শুধু শিল্প উৎপাদন ও প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগ নয়, প্রকৌশল ওয়ার্কশপটি চালু হলে বিশ^বিদ্যলয়ের প্রকৌশল অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষার্থী হাতে কলমে শেখার ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করতে পারবে এবং বিশ^বিদ্যালয়ের সকল মেশিনারিজ যন্ত্রপাতিও এখানে ব্যবহার উপযোগী করা যাবে। বিশ^বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, আনসারদের জন্য উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন ভবন তৈরি করা হলে তা দেখতে দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। কিন্তু সেখানে আনসারদের থাকতে না দিয়ে কিছু শিক্ষক তাদের আনন্দ বিনোদনের জন্য কাব হিসেবে তৈরি করার জন্য পাঁয়তারা চালান যার ফলশ্রুতিতে আনসার বাসস্থানের জায়গা এখন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাব।
এসম্পর্কে জানতে চাইলে শিল্প উৎপাদন ও প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এস এম মুজাহিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রকৌশল ওয়ার্কশপটি অনেকদিন আগে তৈরি হলেও আমরা তা ব্যবহার করতে পারি না, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে কয়েক দফায় চিঠি দিলেও তার কোন সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ উপাচার্য বিষয়টি অবগত হলে তিনি খুব দ্রুত সমাধান করার আশ^াস দেন এবং স্বল্প সময়ে আমরা ওয়ার্কশপটি ব্যবহার করতে পারব বলে আশা করছি।
বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদান করার পূর্বে অনেক অনিয়ম ছিলো আমি এসে সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি, আর খুব দ্রুতই পরবর্তী সেমিস্টার থেকে আইপিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল ওয়ার্কশপটি ব্যবহার করতে পারবে। আর আনসারদের বাসস্থানের জন্য অত্যাধুনিক আনসার ব্যারাকও নির্মিত হচ্ছে।

ভাগ