যথাযথ তদন্ত হোক দুর্নীতির অভিযোগ

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সূচকের অন্যতম হলো শিা ব্যবস্থা। এখানে সামান্যতম অধোগতি পুরো কার্যক্রমকে বেসামাল করে দিতে পারে। আবার এখান থেকেই তৈরি হয় দেশের উপযুক্ত ভাবী কর্ণধার। সমাজ যখন হরেক রকম অসঙ্গতির বিপাকে পড়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে এই পবিত্র শিাঙ্গনটিতে। কারণ উদীয়মান সময়ের প্রজন্ম সমাজের উৎকর্ষ আর অবয়কে যত তাড়াতাড়ি ধারণ করে নেয়, যা অন্য কোথাও সম্ভব হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দিলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, শিক থেকে আরম্ভ করে সম্ভাবনাময় ছাত্রছাত্রীরা কোন এক অদৃশ্য অপশক্তির কালো ছায়ায় জীবন ও ভবিষ্যত গড়ার মূল্যবান সময়কে হেলায় হারাতে বসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সর্বোচ্চ আসনে বসা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়েও সাম্প্রতিককালে হরেক রকম আপত্তি ও অভিযোগ ওঠে পুরো শিা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে। অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিাকার্যক্রমও থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে যে মাত্রায় ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠেছে তা সত্যিই দেশের জন্য মঙ্গলজনক কিছু নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ভিসির অবর্তমানে প্রোভিসি প্রশাসন চালানোর ব্যাপারটিও গ্রহণযোগ্য নয়। আশঙ্কা করা অমূলক নয় সুস্থ রাজনীতির ইতিবাচক প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে যেভাবে শান্ত পরিবেশ কলুষিত করা হচ্ছে, সেখান থেকে পরিত্রাণের সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশ করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে অর্থ প্রদানের কেলেঙ্কারি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার নিরসন এখন অবধি হয়নি। প-বিপ এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে পরিস্থিতি জটিল হতেও সময় নিচ্ছে না। ইতোমধ্যে কাস, পরীা সবই বর্জন অবস্থায় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে বিুব্ধ পরিবেশ। ভিসিকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছে। তাদের প থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্রলীগ উপাচার্যের সমর্থনে আন্দোলনকারীদের ওপর ন্যক্কারজনকভাবে চড়াও হয়েছে। এমন বেসামাল অস্থির পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং শিার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপ। এর আগে অনির্দিষ্টকালের জন্য খুলনার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ছাত্রছাত্রীরা হল ত্যাগে বাধ্য হয়। উচ্চ শিার পবিত্র অঙ্গনের সমূহ সঙ্কট সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক ভিসি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কোথায় এর মূল সমস্যা তা খতিয়ে দেখতে ব্যর্থ হলে অরাজক অবস্থা ঠেকানো মুশকিল হবে। শিক্ষক ও প্রশাসনের দুর্নীতি ভিসি ও দলবাজ শিক্ষকদের নষ্ট রাজনীতি না ষড়যন্ত্র কিংবা ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ার বহিরাগত অপশক্তির প্রভাবÑ সবই কঠোর নজরদারিতে এনে সমস্যা চিহ্নিত এবং দূরীকরণে আরও বেশি দেরি করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি লাগামহীন হয়ে যেতে পারে।
আমরা আশা করবো ছাত্র শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে। আমরা বিশ্বাস করি কোন অভিভাবক চান না তার সন্তান শিক্ষা ছেড়ে আন্দোলন করুক বা ক্যাম্পাসে অনিরাপদ জীবন কাটাক।

ভাগ