মোল্লাহাটে অটিজম শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

বাগেরহাট অফিস ॥ বাগেরহাটের মোল্লাহাটে অটিজম শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার চরকুলিয়া রুপা চৌধুরী অটিজম স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিস্কুট দৌড়, যেমন খুশি তেমন সাজোসহ বিভিন্ন ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। শুধু বিজয়ী শিশু নয়, অংশগ্রহণকারী সকল শিশুকে শুভেচ্ছা উপহার দেন আয়োজকরা।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দিল ফারজানা ফারুকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক শেখ কামরুজ্জামান, চরকুলিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার ইলিয়াসুর রহমান, পাক্ষিক সিডর পত্রিকার সম্পাদক এইচ এম মঈনুল ইসলামসহ আরও অনেকে। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। কোনো কোনো শিক্ষার্থী জীবনের প্রথম এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলে, আমি বিস্কুট দৌড়ে অংশগ্রহণ করেছি। আমি ফার্স্ট হয়েছি। আমাকে পুরস্কার দিন।
হুইল চেয়ারে বিদ্যালয়ে আসা আব্দুল হাই সকলকে গান শোনায়। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আব্দুল হাই বলে, হাটতে পারি না। তাই কখনও স্কুলে যেতে পারিনি। এখানে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কিছু শিখতে পারছি। অনেক মানুষের সাথে মিশতে পারছি। আমার মত অনেকেই আছে যারা হাটতে পারে না। কিন্তু স্কুলে আসে। শুধু রাবেয়া আক্তার, আব্দুল হাই নয় অনেক শিক্ষার্থীই এভাবে আনন্দ প্রকাশ করেছে। অভিভাকরাও খুশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজনে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দিল ফারজানা ফারুকী বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে অনেক চিন্তা করতাম। সব সময় চেষ্টা করতাম কিছু করার। ২০১০ সালে সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চরকুলিয়া এলাকায় অল্পকিছু প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে রুপা চৌধুরী অটিজম প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। শিশুদের আমি খাবারেরও ব্যবস্থা করি মাঝে মাঝে। শিশুরা লেখাপড়া শিখতে পারলে পরিবারের বোঝা থাকবে না। তারা সমাজ ও দেশের সম্পদ হবে। প্রতিষ্ঠানটির দেখভাল ও সার্বিক কল্যাণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ভাগ