মোটরসাইকেল চালিয়ে রত্মা বিক্রি করেন গরুর মাথা ভুড়ি

0

শিপলু জামান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) ॥ প্রথম স্বামী অনেক আগেই ছেড়ে চলে গেছেন। পরের স্বামী তার সাথে প্রতারণা করেছেন। জীবন বাঁচাতে গরুর ভুড়ি-মাথা কিনে ব্যবসা করেন। এই ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন ভোরে ৪০ কিলোমিটার বাইক চাণিয়ে ঝিনাইদহের কালগিঞ্জে যান ফেরেন যশোর শহরে। মা ও এক সন্তান নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস। ছেলের পড়ালেখার খরচসহ সংসারের খরচ চালান এই ব্যবসার মাধ্যমেই প্রতিদিন ভোরে মোটরসাইকেল নিয়ে যশোর-কালীগঞ্জ আবার কালীগঞ্জ যশোরশহরে তার চলাচল। এটি ৪০ বছর বয়সী সংগ্রামী নারী রতœা বেগমের বর্তমান কথা।
রতœা বেগম যশোরের টালিখোলা এলাকার মৃত সিদ্দিক সরদারের মেয়ে। তিনি জানান, ছয় বোনের সবার বড় তিনি। টালিখোলায় একটি ভাড়া বাড়িতে সন্তান মাকে নিয়ে থাকেন। ১৭ বছর বয়সে বিয়ে হয় যশোর সদর উপজেলার অ্যাড়েন্দা গ্রামে। ছেলের বয়স যখন ৮ বছর তখন স্বামী ছেড়ে চলে যায়। জমি বলতে কিছু নেই। এর পর উপায় না পেয়ে বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখানে তিনি গরুর মাথা ও ভুড়ি বিক্রি করেন। এ ছাড়া যদি কেউ গরুর মাংসের অর্ডার করেন, তা হলে সেদিন গরু কিনে জবাই দেন। তিনি আরও জানান, গরুর মাথা ও ভুড়ি সংগ্রহ করতে তিনি নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আসেন। এর পর সেখান থেকে ওগুলি কিনে আবার ফিরে যান তার নিজ শহরের প্রতিষ্ঠানে। সেখানে নিয়ে সেগুলো বিক্রি করেন। এখান থেকে লাভের টাকা দিয়েই চলে মা আর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে সংসার। এভাবেই চলছে ১৪ বছর ধরে রতœার ব্যবসা। তার ছেলের বয়স এখন ১৯ বছর। তিনি যশোরের একটি পলিটেকনিক কলেজে ডিপে¬ামা করছেন।
কালীগঞ্জ নতুন বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, রতœা দীর্ঘদিন ধরেই ভুড়ি ও গরুর মাথা কিনে নিয়ে যান। আগে বাসে করে আসতেন। এখন মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন। তার মতে, রতœা আপা খুব ভালো মানুষ। তার কাজে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হয় বলেও জানান তিনি। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে আক্ষেপ করে রতœা বেগম বলেন, কালীগঞ্জে যাওয়া-আসার সুবাদে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই যুবকের কোনো স্ত্রী ও সন্তান নেই জানিয়ে রতœাকে বিয়ে করেন। পরে জানা যায় তার স্ত্রী ও সন্তান সবই আছে। তার আগের স্ত্রী ব্র্যাকের সালিশ কেন্দ্রে অভিযোগ করেন। সেখানে বিচার হয়। বিচারে তার স্বামীকে প্রথম স্ত্রীর ভোরণপোষণ বাবদ মাসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার রায় হয়। রতœার দাবি,‘এ টাকা আমিই পরিশোধ করতাম। বর্তমানে আমার এই সামান্য ব্যবসা থেকে এত টাকার জোগান আর দিতে পারছি না। এখন তার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি ’।

Lab Scan