মোংলা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে শিকার নিষিদ্ধ সামুদ্রিক শাপলাপাতা মাছ

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট) ॥ মোংলা বাজারে প্রকাশ্যে শিকারনিষিদ্ধ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মৎস্য ও বন কর্তাদের উদাসীনতা এবং নজরদারির অভাবে সমুদ্র ও সুন্দরবন অঞ্চলের বিভিন্ন নদী থেকে বিলুপ্ত প্রায় কয়েক প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল ১০ টার দিকে মোংলা মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দরবনের বিপন্ন প্রজাতির শিকার নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ বিক্রি চলছে। মোখলেছুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, কোন মাছ নিষিদ্ধ সেটাতো আমরা জানি না, বিক্রেতারা বিক্রি করছেন তাই তিনি কিনছেন। এদিন তিনি ৬শ টাকা কেজি দরে দেড় কেজি কাটা শাপলাপাতা মাছ কিনেছেন বলেও জানান। তবে বিক্রেতা রমজান আলী বলেন, বাজারের আড়ৎদারদের কাছ থেকে শাপলাপাতা মাছ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি।
শুধু যে শাপলাপাতা মাছ বিক্রি হচ্ছে তা অবশ্য নয়। এ মাছের পাশাপাশি শিকার নিষিদ্ধের তালিকায় থাকা হাঙর, কাইন, শুশুকসহ বিপন্ন প্রায় অন্যান্য প্রজাতির নানা ধরনের মাছ প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে মোংলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সমুদ্র ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী থেকে ধরা বিপন্ন প্রজাতির এসব মাছ বিক্রয় নিষিদ্ধ হলেও সুস্বাদু হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতাই চড়া মূল্যে এসব মাছ কিনে থাকেন।
মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, শিকার নিষিদ্ধ সামুদ্রিক মাছ বাজারে বিক্রি হলেও এ ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, এটা রোধ করা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বন বিভাগের ওপর বর্তায়। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনের জলভাগে হাঙর, কাইন, শাপলাপাতা, শুশুক ও ডলফিনসহ বিলুপ্ত প্রায় কয়েক প্রজাতির মাছ রয়েছে। এসব বিপন্ন প্রায় প্রজাতির মাছ ধরা, আহরণ, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি বেআইনি বলে বনবিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আইন ভেঙে এসব বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ ধরাসহ অন্যান্য কাজ করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীপথে বিলুপ্ত প্রজাতির এসব মাছ বাজারে আসছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিশ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোল্যজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ আহরণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল এবং জেলেদের সচেত করতে হবে। তা না হলে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যেতে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন থেকে এ জাতীয় মাছ শূন্য হয়ে যেতে পারে’।

 

Lab Scan