মোংলা বন্দরে পশুর নদীর ড্রেজিং প্রকল্প বন্ধে পাঁয়তারার অভিযোগ

0

 

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ মোংলা বন্দরে পশুর নদীতে চলমান ইনার বারে (হারবাড়িয়া-জেটি পর্যন্ত) ড্রেজিং প্রকল্প বন্ধের পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ৭৯৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি বন্ধে একটি মহল উঠে পড়ে লেগে নানা অপপ্রচার ও চক্রান্ত চালিয়ে এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার নীল নক্সা তৈরি করছে এমন অভিযোগ এনে সোমবার সকাল ১১ টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ওই মহলকে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
বন্দরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, মোংলা বন্দরের পশুর নদীর হারবাড়িয়া থেকে জেটি পর্যন্ত ২৩ কিলো মিটার নৌপথের নাব্যতা বাড়াতে ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেন তারা। এটি করা হলে মোংলা বন্দরের জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে নয় দশমিক ৫০ থেকে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। কিন্তু গত ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই ড্রেজিং প্রকল্প বন্ধ করতে একটি মহল বিভিন্ন অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে উস্কে দিয়ে নানা রকম অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ইনার বারে ড্রেজিং করা বালি বা মাটি ফেলতে পশুর নদীর তীরবর্তী বানিশান্তা এলাকার ৩০০ একর জমি দু’বছরের জন্য হুকুম দখল করা হয়। এর মধ্যে ১৮৫ একর দুই ফসলি এবং ১১৫ একর এক ফসলি জমি। সেখানে তিন ফসলি কোন জমি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, হুকুম দখল করা জমির মালিকদের বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের টাকাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিশোধ করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু একটি মহল ওইসব জমির মালিকদের ভুল বুঝিয়ে ওই ‘তিন ফসলী জমি’ উল্লেখ করে ড্রেজিং করার বালি বা মাটি ফেলতে বাধা দিচ্ছেন।
ষড়যন্ত্রকারীদের এসব অপতৎপরতা কোনও ভাবেই সহ্য করা হবে না জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের উন্নয়নের অংশ মোংলা বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, সিভিল ও হাইড্রলিক্স বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের সচিব কালাচাঁদ সিংহসহ বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Lab Scan