মোংলায় সুপেয় পানির অভাবে পৌরসভার দু লক্ষাধিক মানুষ

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট)॥ দীর্ঘদিন ধরেই মোংলায় কোন বৃষ্টিপাত নেই। সেই সাথে চলছে প্রচন্ড তাপদাহ। অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে শুকিয়ে গেছে এখানকার পুকুর ও জলাশয়। দেখা দিয়েছে সুপেয় ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত পানির তীব্র সংকট। এছাড়া তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। সাম্প্রতিক সময়ে আশপাশ এলাকায় বৃষ্টিপাত হলেও আষাঢ় মাস শুরুতে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা নেই মোংলায়।
এদিকে লবণাক্ত মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানির অভাবে ভোগান্তিতে প্রায় দুই লাখ মানুষ। খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পানি নিয়ে এখানকার মানুষের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। পৌরসভা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে যে পুকুর থেকে পানি সরবরাহ করা হয় তা প্রায় শুকিয়ে গেছে। পানি পুকুরের তলানীতে এসে পৌঁছানোর কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছে না। এ নিয়ে পৌরবাসীর ক্ষোভের শেষ নেই। অপরদিকে মোংলা শহরে বৃষ্টির জন্য ইতিমধ্যে দু দফায় বিশেষ নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নামাজ ও দোয়ায় মুসল্লিরা বৃষ্টির জন্য হাত তুলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেন।
পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সুপেয় পানির সংকট সমাধানে গত ২০০৮ সালে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের মাছমারা এলাকায় পুকুর খননসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও অবকাঠামো করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তাতেও চাহিদা না মেটায় ২০১৬ সালে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি পুকুর খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হয়। মোট ৮৩ একর জায়গার ওপর দুটি পুকুর খনন, দুটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
এ পুকুর দুটিতে বৃষ্টি ও নদীর পানি সংরক্ষণ করে তা রিফাইনারি (বিশুদ্ধকরণ) করে পৌরবাসীদের সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ করা সেই পানি চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়া ও অনাবৃষ্টির কারণে পুকুর দুটি শুকিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বিপাকে পড়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। এর সাথে পৌর শহরের বাসিন্দাদেরও ভোগান্তি বেড়েছে। মূলত অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
সুপেয় পানির সংকটের কারণে পৌরবাসীর ভোগান্তি হচ্ছে স্বীকার করে পৌরমেয়র শেখ আব্দুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর দুটি খননের কারণে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ বলেন, পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার পর থেকে তাদের কোনো দায়িত্ব থাকে না। তারপরও পানির সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Lab Scan