মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সচেতনতায় গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার পরামর্শ হাইকোর্টের

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সচেতনতায় গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওষুধের লেবেলের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্ট করে বাংলা ও ইংরেজিতে এবং সহজে বোঝা যায় সেভাবে লেখা থাকতে হবে বলেও মতামত দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিচারপতি এফ.আর.এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পরামর্শ দেন। এছাড়া, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের প্রতিকারে একটি হটলাইন চালু করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২শে আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।
আদালতে কামরুজ্জামান কচি বলেন, আইন অনুসারে এটা চলমান প্রক্রিয়া। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। সারা দেশের পাশাপাশি মিটফোর্ডে অভিযানের বিষয়ে আদালতের প্রশ্নে কামরুজ্জামান কচি বলেন, ১৭টি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আটটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখন প্রযুক্তির যুগ। সবখানে পত্রিকা না পৌঁছলেও টিভি আছে। দুর্গম কোনো চরেও টিভি আছে।
তাই ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া য়ায় কিনা দেখেন। যদিও এখানে অর্থনৈতিক বিষয় আছে। তারপরও সচেতন করেন। ফিল্ডে (মাঠ পর্যায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে অভিযান) যে রকম অ্যাকশন নিচ্ছেন তেমনি প্রচার-প্রচারণাতেও করতে হবে। আদালত বলেন, ওষুধে উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য বড় করে থাকতে হবে। যেন ভিজিবল হয়। অনেকে আবার ইংরেজি বোঝে না। কিন্তু আমাদের ওষুধ রপ্তানি হয়। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে এগুলো থাকতে হবে। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক অভিযান চালানো হয়েছে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। তখন আদালত বলেন, ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তো বিষ হয়ে যায়। তাই জনসচেতনতা দরকার। এসময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযান চলবে। যথেষ্ট কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য আপনাদের নির্দেশে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তখন আদালত বলেন, যথাযথ স্টেপ নেয়ায় অ্যাপ্রিশিয়েট করছি। এ অভিযান প্রশংসনীয়। এখানে যারা ব্যবসা করছেন তাদেরও সচেতন হওয়া দরকার। যারা উৎপাদন করছেন তাদেরও। কারণ ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হয়। এখানে সেফ থাকলে বিদেশে সুনাম হবে। এসময় রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, আইন অনুসারে ওষুধের মেয়াদ ভিজিবল হতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ওরস্যালাইন, ইনজেকশন, হাঁপানিরসহ কয়েকটি ওষুধ আদালতে উপস্থাপন করেন। ওইসব ওষুধ দেখে আদালত বলেন, মেয়াদ আছে। তবে সেটা বোঝার উপায় নেই। অনেক মানুষ এটা পড়তে পারবে না। এগুলো ভিজিবল হওয়ার দরকার। বিষয়টি দেখার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটিকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২২ আগস্ট দিন ঠিক করেন আদালত। এর আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের দাখিল করা প্রতিবেদন গত ১৬ই জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এখন পর্যন্ত ৩৬ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ই জুন সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার বা ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ১৭ জুন রিট করেন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন।

ভাগ