মূল্যবৃদ্ধির খবরেই কোটি কোটি টাকা লুটে নিল কোম্পানী

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে দেশের এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যশোরে মাসখানেক ধরে ক্রেতাদের কাছ থেকে সিলিন্ডার প্রতি ১০০ টাকা করে বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। ৯৫০ টাকার ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা। ভোক্তাদের অভিযোগ সরকারি নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় গ্যাস কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে ইরানের আল কুদস বাহিনী প্রধান ও বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এই হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। ৩ জানুয়ারি ওই হামলার ঘটনার পরের দিন ৪ জানুয়ারি দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাস কোম্পানিগুলো বর্ধিত দামে গ্যাস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ভোক্তাদের হতাশ করে গ্রাহক পর্যায়ে হঠাৎ করেই গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেয়। গতকাল মঙ্গলবার যশোর শহরের খুচরা দোকানগুলোয় বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত ৩ জানুয়ারিও এই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছিল ৯৫০ টাকা। আর বাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি খরচ দিতে হয় ৫০ টাকা।
সংলিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এলপি গ্যাসের আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর বিদেশ থেকে মাল আসতে সময় লাগে এক মাস। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে যেদিন জ¦ালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লো তার পরের দিনই দেশের বাজারে বর্ধিত দাম নেয়া শুরু হলো। বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহারের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রেতা বারান্দিপাড়ার রেজাউল ইসলাম জানান, গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ওই ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের বাড়তি ভোগান্তিতে ফেলেছেন। তিনি আরও জানান, এই এক মাসে সিলিন্ডার প্রতি ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা বাড়তি কামিয়ে নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শহরের আর এন রোডে টোটাল গ্যাসের পরিবেশক শাহাবুদ্দীন এন্টারপ্রাইজের শেখ শাহাবুদ্দীন আহম্মদ লোকসমাজকে জানান,এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলো মাসখানেক ধরে হঠাৎই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তিনি তার দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস খুচরা পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ১ হাজার ৫০ টাকা। মাসখানেক আগে তিনি ৯৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে বাড়ি পৌছে দিলে সিলিন্ডার প্রতি খরচ পড়বে আরও ৫০ টাকা। এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জ¦ালানি তেল ও গ্যাস পরিবেশক সমিতির যশোর জেলা শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদেরের সাথে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য, যশোরে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ওমেরা,বসুন্ধরা,বেক্সিমকো, জি-গ্যাস, নাভানা, টোটাল,অরিয়ন, প্রসিতা, বিএম, পেট্্েরাম্যাক্স অন্যতম। সূত্র জানায় অন্তত ২২ টি এলপি গ্যাস কোম্পানি তাদের গ্যাস বাজারজাত করছে।

ভাগ