মুরগি একদিনে বাড়ল ৩০ টাকা, আদা ৩২০, পেঁয়াজ ৬৫, চিনির কেজিতে বাড়তি ১৫

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মানুষের চাহিদা বুঝে যশোরের খামারিরা ব্রয়লার মুরগির দাম মাত্র একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে আবারও দাম বাড়ল পেঁয়াজ ও আদার। কেজিতে ১৬ টাকা বাড়িয়ে সরকার চিনির খুচরা বিক্রয় মূল্য ১২০ টাকা নির্ধারণ করলেও আগের মতই বাড়তি দামে বাজারে বিক্রি অব্যাহত আছে। বাজারে এসেছে সরকারের বাড়ানো দামের নতুন সয়াবিন তেলের বোতল।
মুরগির খাবারের দাম কমেনি। আগের মতই আছে। তবুও গত ৩/৪ দিন যশোরের বড়বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ৬০ টাকা কমিয়ে দিয়েছিলেন খামারিরা। অস্বাভাবিক দামের কারণে সাধারণ মানুষ মুরগি কেনা বাদ দিয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কেনার দিকে ঝুঁকেছিলেন। আর এ কারণেই খামারিরা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তাদের মুরগির সদগতি করার জন্য। বাধ্য হয়েই প্রতি কেজিতে ৬০ টাকা কমিয়ে দোকানে সরবরাহ করেন। খুচরা বিক্রেতারাও ২৬০ থেকে ৬০ টাকা কমিয়ে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে থাকেন। এই দামে ব্রয়লার বিক্রি অব্যাহত ছিল মাত্র ৩/৪ দিন। কিন্তু শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সাধারণ মানুষের চাহিদা বাড়ে বিধায় খামারিরা প্রতি কেজি মুরগিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবারও (১১ মে) বড়বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০০ টাকা। আর গতকাল শুক্রবার (১২ মে) একদিনের ব্যবধানে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হলো ২৩০ টাকা। বাজারে খুচরা বিক্রেতা তানভীর ব্রয়লার হাউজের স্বতাধিকারী ইমরান হোসেন জানালেন খামারিদের কাছ থেকেই বেশি দামে ব্রয়লার মুরগি কিনতে হচ্ছে।
এদিকে বড়বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরও ১০ টাকা বাড়ল মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে। গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছিল ৫৫ টাকা কেজি। গতকাল শুক্রবার বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা। আদাও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা।
বাজারে দোকানগুলোতে খোলা চিনির প্রচুর সরবরাহ থাকলেও বিক্রি হচ্ছে দোকানিদের নির্ধারণ করা দামে। গতকাল বড়বাজারে প্রতি কেজি সাদা খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা দরে। গত বুধবার (১০ মে) সরকার খোলা চিনিতে আরও ১৬ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা খুচরা দাম নির্ধারণ করে দিলেও কোনও ব্যবসায়ী তা মানছে না। এর আগেও মাস তিনেক আগে সরকার খোলা চিনি খুচরা বিক্রয় মূল্য ১০৪ টাকা নির্ধারণ করলেও তখনও ব্যবসায়ীরা অগ্রাহ্য করে ১২০/১২৫ টাকায় বিক্রি করেছিল।
বাজারে মাছের দামেও আগুন। গতকাল শুক্রবার দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ২২শ টাকা, এক কেজি ইলিশ ১৮শ টাকা, ৭০০/৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৫শ টাকা। খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান,যশোর বাজারে ইলিশ মাছের আমদানি খুব কম, এ কারণে দাম বেশি। অন্যান্য মাছের দামও যথেষ্ট বেশি। এক কেজি রুই বিক্রি হয়েছে ২৮০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের কাতল মাছের কেজি ৩৫০ টাকা, আড়াই কেজি ওজনের বোয়াল মাছের কেজি ৫শ টাকা, ১৩/১৪ পিস কেজি পাবদা ৫৫০ টাকা, বেলে ৬শ টাকা, মায়া ৪৮০ টাকা, ৫/৬ পিস কেজি বাটা ২২০ টাকা, ৩০/৩২ পিস গলদা কেজি ৮শ টাকা, পুঁটি ৪শ টাকা,ট্যাংরা ৬শ টাকা।
লিটারে ১২ টাকা বাড়ানো সরকার নির্ধারিত নতুন বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে এসেছে। গতকাল শুক্রবার প্রতি লিটার ১৯৯ টাকা দরের বোতল সয়াবিন তেল বাজারে বিক্রি হয়েছে। আর খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি ১৯২ টাকা, সুপার পাম প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, পাম তেল প্রতি কেজি ১৪৫ টাকা ও সরিষার তেল প্রতি কেজি ২শ টাকা দরে।

 

Lab Scan