মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকেলে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লক থেকে বেরিয়ে আসেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়ার সাথে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পরিবারের সদস্যরা। তিনি সরাসরি গুলশান ২-এর বাসভবন ফিরোজায় যান। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, বেলা তিনটা পাঁচ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি দেয়ার পর পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপির মহাসচিব তাকে গ্রহণ করেন। এর ঘণ্টাখানেক পরে হাসপাতালের কেবিন থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাকে বের করে এনে গাড়িতে তোলা হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও সে সময় বিএনপির শত শত নেতাকর্মী সেখানে ভিড় করে খালেদা জিয়ার নামে শ্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের সামলাতে নিরাপত্তাকর্মীরা হিমশিম খান। সেখান থেকে সরাসরি তাকে গুলশানের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে বেগম জিয়ার মুক্তির খবরে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন স্তরের আবেগী নেতা-কর্মীরা। যদিও করোনা সতর্কতার কারণে কোনো ভিড় না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল দলের তরফ থেকে।
নেতা-কর্মীরা বেগম জিয়ার গাড়ি বহরের সাথে সাথে তার বাসভবনের দিকে যান। সকাল থেকেই ফিরোজা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করা হয়। দলের মহাসচিব প্রস্তুতি দেখভাল করেন। পরিবারের সদস্যরাও সকাল থেকে বাসায় ছিলেন। বেগম জিয়ার জন্য তার পছন্দমতো খাবারও তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তি দেয়ার পর থেকে এই ছয় মাস গণনা শুরু হবে। দুটি শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে আইনমন্ত্রী জানান। সেগুলো হলো, এই সময়ে তার ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। আইনমন্ত্রী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায়, মানবিক কারণে, সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’” এদিকে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণা আসার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, এতে দল ও নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি বোধ কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘’সরকারের এই সিদ্ধান্তে দল ও নেতাকর্মীরা যেমন স্বস্তি বোধ করছেন, আবেগ কাজ করছে, পাশাপাশি তাদের মধ্যে একটি আতঙ্কও কাজ করছে এটা ভেবে যে এমন একটা সময়ে তাকে মুক্তির এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন করোনাভাইরাস নিয়ে একটি দুর্যোগ চলছে।” দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মধ্যে গত ১১মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়। দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

ভাগ