মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্লট দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের দায়ে দণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে খাস জমির প্লট কিনে দেয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে নজরুল ইসলাম বাচ্চু নামে এক ব্যক্তিকে কারা ও অর্থদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার মারুফ আহমেদ এই রায় প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম বাচ্চু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুদ্রগাও এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে এবং ঢাকার মিরপুর-১ এর রূপনগর আবাসিক এলাকার শিয়ালবাড়ির ৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা। রায় ঘোষাণার সময় আসামি নজরুল ইসলাম বাচ্চু আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন বলে পেশকার তারেক হোসেন জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম বাচ্চু বৃহত্তর ঢাকা জেলা বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার য্দ্ধুাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার কল্যাণ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। তিনি নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের মহাসচিব হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে রাজধানী ঢাকায় খাস জমির প্লট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে সোসাইটির সদস্য করেন। একইভাবে তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার রাঢ়ীপুকুর গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে হায়দার আলীকে তিনি প্রলুব্ধ করে সোসাইটির সদস্য করেন। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ২ মের মধ্যে নজরুল ইসলাম বাচ্চু তাকে প্লট কিনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া একইভাবে আরো ১২ জন সদস্যের কাছ থেকে ১৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা নেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের সদসদের জমির প্লট না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন নজরুল ইসলাম বাচ্চু। পরে প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নজরুল ইসলাম বাচ্চু নিজে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য নন। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান খুলে অনেক লোককে সদস্য করে কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট যশোর শহরের নীলগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে এসএম গোলাম মোস্তফা কামালের বাড়িতে আসামি নজরুল ইসলাম বাচ্চুকে পেয়ে তার কাছে টাকা ফেরত দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করায় ভুক্তোভোগীদের পক্ষে হায়দার আলী ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলাম বাচ্চুকে আসামি করে যশোরের আদালতে মামলা করেন। এই মামলায় আসামি নজরুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ৪০৬ ধারায় ২ বছর সশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদ- এবং ৪২০ ধারায় ৪ বছর সশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন। রায়ে উভয় সাজা একই সাথে চলবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

Lab Scan