মিয়ানমার থেকে এক মাসেই সাড়ে ২১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি

লোকসমাজ ডেস্ক।। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর হঠাৎ করেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের বড় সংকট দেখা দেয়। সংকট মোকাবেলায় ভারতের বিকল্প বাজার থেকে আমদানি বাড়ান ব্যবসায়ীরা। আর এ সময়ে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে। এ ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বরে মিয়ানমার থেকে মোট ২১ হাজার ৫৬০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে এসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢুকেছে।
টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক বছরের মতো মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। কিন্তু চলতি বছর দেশের বাজারে মসলাজাতীয় পণ্যটির সরবরাহ সংকট শুরু হওয়ার পর আগস্টের শেষের দিকে দেশটি থেকে অল্প পরিমাণ আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এ মাসে দেশটি থেকে মাত্র ৮৪ টনের মতো পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে সেপ্টেম্বর থেকেই ভারতীয় পেঁয়াজ আসা সীমিত হয়ে পড়ে। আর মাসের শেষের দিকে চূড়ান্তভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত সরকার। এর পর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি বাড়তে থাকে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার থেকে ৩ হাজার ৫৭৩ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। আর অক্টোবরে দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ৮৪৩ টন পেঁয়াজ। চলতি মাসেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পেঁয়াজ দেশটি থেকে আমদানি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিয়ানমার থেকে ট্রলারে আসা এসব পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ দ্রুত খালাসে আমরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি।
দ্রুত সময়ে পেঁয়াজ খালাসে পর্যাপ্ত শ্রমিকও রয়েছে। আমদানিকারকরা এ বন্দরে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আমদানীকৃত পণ্য সহজে খালাস করতে পারছেন।
এদিকে মিয়ানমার থেকে আমদানি বাড়লেও দেশের বাজারে এখনো নাগালের বাইরে রয়েছে পেঁয়াজের দাম। খোদ টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পৌর বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখনো ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলাসহ দেশের সব বাজারে।
খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নগরীতে খোলাবাজারে দুই দফা ৪৫ টাকা দরে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নগরীতে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ এখনো ২২০ ও চীন থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দরে
খালাস হওয়ার পর ট্রাকে ভরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তে নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকে একাধিক হাতবদলের সময় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
পেঁয়াজ আমদানিকারক এমএ হাশেম বলেন, দেশে সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া চাহিদার তুলনায় এখনো সরবরাহ কম থাকায় দাম কমছে না। তবে আমদানিকারকরা নিজেদের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভাগ