মিথ্যা ঘোষণায় ভায়াগ্রা আমদানি

গত বৃহস্পতিবার দৈনিক লোকসমাজসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বেনাপোল স্থল বন্দর ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের পৃথক দুটি খবরের বিষয়বস্তু ছিল প্রায়ই একই। বেনাপোলের খবর ছিল প্রথমবারের মতো যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রার বিপুল পরিমাণ পাউডার আটক। আর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের খবর ছিল বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানায় নির্মিয়মান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মেশিনারিজ আমদানির মিথ্যা ঘোষণায় জাহাজাভর্তি আমদানি হয়েছে। এছাড়াও শূকর ও গবাদিপশুর বর্জ্য আমদানির ঘটনা ঘটেছে। দুই বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশাল এ চালান দুটিকে আটকের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে সকল বন্দরেই মিথ্যা ঘোষণায় দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর পণ্য আমদানি চলছে এবং তা ভয়াবহ মাত্রায় আনা হচ্ছে। এখন সময় এসেছে এই আমাদনিকারকদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার। শুল্ক গোয়েন্দাদের বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে।
পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা অবৈধ চালানে শত শত কোটি টাকার মাদক, শুকরের বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, ব্যাপক রাজস্ব ক্ষতি ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগজনক। সরকারি বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা ক্যাপিটাল মেশিনারিজের শুল্কহার মাত্র ১ শতাংশ আর মদ-বিয়ারের আমদানি শুল্ক ৩০০-৫০০ ভাগ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকনায় নির্মীয়মাণ বিদ্যুতকেন্দ্রের জন্য ৪০৬ টন ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে জাহাজ ভর্তি ৬০০ বাক্সে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার আমদানি করেছে জালিয়াতচক্র। পরীক্ষা বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই পণ্য খালাস করার সময় কার্টন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মদের বোতল বেরিয়ে পড়লে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। এভাবে কতবার কি পরিমাণ অবৈধ পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ও খালাস হয়েছে তা জানার কোনো সুযোগই হয়তো নেই। আরেক চালানে মাছ ও মুরগীর খাদ্যের নামে ১৪০৮ মেট্টিক টন শূকর ও গবাদিপশুর বর্জ্য আমদানির তথ্য উৎঘাটন করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস হাউজ। তিনটি ভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ফিশ ও পোল্ট্রি ফিডের নামে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং মুসলমানদের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ পণ্য শূকরের বর্জ্য আমদানির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতি কাস্টমস হাউজগুলো এখন দৃঢ় হাতে রুখে দিতে শুরু করেছে। এ ধারা যে কোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে হবে। জোরদার করতে হবে।
দৈনিক লোকসমাজসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে খাদ্যের ফ্লেবার বা সুগন্ধি আমদানির নামে ভারত থেকে ২০০ কেজি ভায়াগ্রা পাউডার আমদানির চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় একই সময়ে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি, মিথ্যা ঘোষণা ও অবৈধ ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির তথ্য উঘাটন থেকেই বোঝা যাচ্ছে দেশের সমুদ্র ও স্থল বন্দর দিয়ে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ও খালাস করা হচ্ছে। বন্দরে খালাস হওয়া বেশিরভাগ পণ্যের যথাযথ পরিক্ষণসহ উপযুক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সরকারি বিদ্যুত কেন্দ্রের নামে আমদানিকৃত ক্যাপিটাল মেশিনারিজের নামে শত শত টন বিদেশি মদ আমদানির ঘটনা অনেকটা কাকতালিয় ভাবে উৎঘাটিত হলেও এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত প্রতিটা পণ্যের যথাযথ পরিদর্শন ও উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় ল্যাবরেটরি টেস্ট নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দেশের যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি ব্যাপক আকার ধারণ করার অন্যতম কারণ এর সহজলভ্যতা। মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা মাদক ও স্বাস্থ্যহানিকর পণ্য বিপণন করে একটি চক্র রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে, পক্ষান্তরে দেশের যুব সমাজ তথা জাতির ভবিষ্যত রসাতলে যাচ্ছে। দেশের সব বন্দরের আমদানি প্রক্রিয়ায় আধুনিক ল্যাবরেটরি টেস্ট সিস্টেম ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও কাউন্টার-মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বড় বড় কপোর্রেট কোম্পানির বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির অভিযোগ উঠেছে। শত শত চালান জব্দ করা হয়েছে। একদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি, অন্যদিকে মাদক, ভায়াগ্রা এবং শূকরের বর্জ্য আমদানির মত ঘটনা সবদিক থেকেই দেশ ও জাতির জন্য বিপজ্জনক। এ ধরনের জালিয়াতির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এদের আমদানি ও পণ্য খালাসের লাইসেন্সও বাতিল করতে হবে।

ভাগ