মাসে দ্বিগুণ লাভ দেখিয়ে ৫০কোটি টাকা আত্মসাৎ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে চক্রের সদস্যরা পরতেন দামি পোশাক। চলাফেরা করতেন অভিজাত সব তারকা হোটেলে। চড়তেন দামি গাড়িতে। ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং নামে চক্রটির অনলাইনভিত্তিক চারটি এমএলএম কোম্পানিতে ৫-৬ লাখ সদস্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। গতকাল দুপুরে মালিবাগে সিআইডি’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে চক্রের সাত সদস্যকে গত শনিবার সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আবুল হোসেন পুলক, মো. মাহাদী হাসান মল্লিক, মো. মিজানুর রহমান ওরফে ব্রাভো মিজান, মো. মহিউদ্দিন জামিল, মো. সাইফুল ইসলাম আকন্দ, মো. আলী সরকার ও মো. শাহানুর আলম শাহীন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই, একাধিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড, বিভিন্ন অবৈধ এমএলএম কোম্পানির বিজনেস প্ল্যানের কাগজপত্র ও ৬২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। সিআইডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, চক্রটি প্রথমে একটি অনলাইন গ্রুপ খোলে তাদের ব্যবসার বিষয়ে প্রচারণা চালায়। প্রথম ধাপে বিশ্বাস অর্জনের পর চক্রটি তাদের অনলাইনে এমএলএম সাইটে ১ হাজার ৮৫০ টাকা দিয়ে সদস্য হতে বলে। এক্ষেত্রে এই টাকা ১৫ অথবা ৩০ দিনে দ্বিগুণ করার কথা বলে চক্রটি। পরবর্তী ধাপে চক্রটি নতুন সদস্যদের বলে আবার নতুন সদস্য নিয়ে আসতে। জনপ্রতি নতুন সদস্যের জন্য তারা ৫০ টাকা করে পাবেন। যে সদস্য ১৫০ জন নতুন সদস্য নিয়ে আসতে পারবেন তিনি হবেন স্টার সদস্য। এই স্টার সদস্যকে আইফোন, গাড়ি ও বিদেশে ট্যুরের প্রলোভন দেখাতেন তারা। প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা একেকজন ২-৩ হাজার নতুন সদস্য নিয়ে আসতেন। আবার বেশি সদস্য আনার জন্য কিছু স্টার সদস্যকে নিয়ে দেশ ও বিদেশে নানা প্রোগ্রাম আয়োজন করতেন তারা। এসব প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে ভুক্তভোগীরা হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। তিনি বলেন, এ ছাড়া তারা সদস্যদের আকৃষ্ট করার সময় নিজেরা খুব বিলাসী জীবনযাপন করতেন। দামি গাড়ি, বাড়ি এবং হোটেলে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করতেন চক্রটির সদস্যরা। তখন আবার যারা বেশি সদস্য এনে দিতেন ওইসব সদস্যের বিভিন্ন রেটিং করে চক্রের সদস্যরা তাদের নিয়ে নতুন প্রোগ্রাম আয়োজন করতেন। যেন আরও সদস্য আনা যায় এসব প্রোগ্রাম দেখিয়ে।
ডিআইজি ইমাম বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে এক মাসে কোনোভাবে টাকা দ্বিগুণ করা সম্ভব নয়। এবং সুযোগ নেই। এই চক্রের প্রতারিত ভিকটিমদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে যাদের অধিকাংশই নারী। তারা ঘরে বসে কিছু অর্থ আয় করার প্রলোভনে এই চক্রটির ফাঁদে পা দেয়। চক্রের মূল হোতা আবুল হোসেন পুলক ও মাহাদী হাসান মল্লিক আগে ডেসটিনিতে কাজ করতেন। ডেসটিনি থেকে এমএলএম ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তারা এখন অনলাইনে এই প্রতারণা করে আসছেন। যদিও চক্রটির সদস্যরা এটাকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বলেন। চক্রটির চারটি অনলাইন এমএলএম কোম্পানি আছে। চারটি কোম্পানির মাধ্যমে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় লাখ লোকের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। এভাবে তারা ৪০-৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সিআইডি’র এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারকরা ভিকটিমদের কাছ থেকে টাকাগুলো বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিয়েছেন। প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়া টাকার মধ্যে কিছু তারা বিনিয়োগ করেছেন, কিছু টাকা দিয়ে বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে খরচ করেছেন। কিছু টাকা ব্যাংকে রেখেছেন। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Lab Scan