মানুষের স্বার্থে দলবাজি বন্ধ করুন

0

 

সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনির আওতায় নেয়া সরকারি আর্থিক প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘকাল ধরেই এই অনিয়ম চলে আসছে। এর প্রতিকার হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের স্বজন ও দলপ্রীতির কারণে উদ্যোগের আওতাধীন প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়েছে এবং হচ্ছে। করোনা মহামারিতে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া এবং বিগত কয়েক মাস ধরে চলমান নিত্যপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে শুধু স্বল্প আয়ের মানুষই নয়, অসংখ্য মধ্যবিত্ত পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্তে এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার দরিদ্র হয়ে গেছে। এসব মানুষকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়ার জন্য সরকার তার সামর্থের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ প্রদান, কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া, স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি এবং সর্বশেষ ১ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দুর্নীতি অনিয়মে এসব কর্মসূচির প্রত্যেকটিই বিতর্ক্রে মুখে পড়েছে। বহু কৃষক প্রণোদনার অর্থ পায়নি, মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি দলের নেতা-কর্মী দালারেরা একাধিক মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছল লোকজন, সরকার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরাই সুবিধা পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কিংবা দলের অন্যকোনো দলের লোকজন এ কর্মসূচির আওতায় পড়েনি বললেই চলে। আমরা মনে করি, এই যে ১ কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কর্মসূচি, তা যদি প্রকৃত অসচ্ছল মানুষ পেত, তাহলে এই দুর্মূল্যের বাজারে কিছুটা হলেও তারা স্বস্তি পেত। সবাই না হলেও কিছু অস্বচ্ছল মানুষ অন্তত সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পেত। সরকারেরও সুনাম হতো। তা না হয়ে, স্বচ্ছল ও রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধাভোগী তালিকা করায় প্রকৃতরা বাদ পড়ে গেছে এবং উদ্যোগটি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। এতে এমন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, সরকার তার দলের লোকজন ছাড়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। সরকারি সব সুবিধা লাভের অধিকার কেবল তাদেরই। কঠিন এক পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের মূল্য প্রতিদিনই বাড়ছে। সাধারণ থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাভিশ্বাস উঠেছে। তারা খরচ কমিয়ে, একবেলা না খেয়ে ও কৃচ্ছ্রসাধন করেও কুলিয়ে উঠতে পারছে না। দিন আনে দিন খায় কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে। মধ্যবিত্তদের পরিস্থিতি সবচেয়ে করুণ। তারা না পারে কারো কাছে কিছু চাইতে, না পারে সইতে। এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান কবে হবে, তা অনিশ্চিত।
এ পরিস্থিতি বেশি দিন থাকবে না, শিঘ্রই কেটে যাবে, অল্প কিছু দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে, সরকারের মন্ত্রী ও নেতৃবন্দের মুখে এখন এমন আশ্বাসের কথা অহরহ শোনা যাচ্ছে। তারা এটা ভাবছে না, বর্তমানে মানুষের ত্রাহি অবস্থা চলছে, তাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে, ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি তাদের নেই। অতি শোচনীয় এই পরিস্থিতি যদি সামাল না দেয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কী দাঁড়াবে সেটা সহজেই অনুমেয়। ভবিষ্যতে কি হবে, সরকারের মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য-বিবৃতি ও আশ্বাস মানুষ শুনতে চায় না। মানুষ চায় অবিলম্বে সরকার তাদেরকে এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করুক। আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন স্বস্তিদায়ক করতে যা করার এখনই করতে হবে। সরকারকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিত্য পণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। কৃষি উপকরণ ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনবে, আনতে হবে। একই সাথে ফ্যামিলিকার্ডসহ সকল প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

 

Lab Scan