মাছ রপ্তানিতে আয় সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার ৮০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত

0

 

তহীদ মনি ॥ যশোর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৩০২ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানি করে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার১৫৫ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। রপ্তানি আয়ের মধ্যে ইলিশ ব্যতিত সাদা মাছের ৮০ শতাংশই যশোর জেলায় উৎপাদিত মাছ- এমনটিই দাবি জেলা মৎস্য অফিসের। এছাড়া যশোরে প্রতি বছরই মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অর্থ বছরে ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৮ মেট্রিকটন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদিত হয়েছে যা এর আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন বেশি। এ সময় জেলার চাহিদা মিটিয়েও ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৯ মেট্রিকটন মাছ উদ্বৃত্ত ছিল যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৭২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জলায়তন রয়েছে। এখান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাাদিত হয়। এই মাছ যশোরের চাহিদা মিটিয়েও সারা দেশের আমিষের চাহিদা যোগান দিয়ে যাচ্ছে। জেলায় প্রায় ৭০ মেট্রিকটন রেণু পোনা উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে জেলার চাহিদা প্রায় ১৯ মেট্রিকটন বাদে ৫০ মেট্রিকটনের সবটাই দেশের বিভিন্ন জলাশয়ের জন্যে পাঠানো হয়।
এছাড়া যশোরে ২ লাখ ৮০৭ লাখ পোনার চাহিদা মিটিয়েও ১১ হাজার প্রায় ৩১২ লাখ পোনা উদ্বৃত্ত থাকে। এই পোনাও দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে জাতীয়ভাবে কাজ করছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ৭ দিনের কর্মসূচি তুলে ধরতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। সেখানে জানানো হয়, যশোরের বেনোপোল স্থল বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা মাছের মধ্যে ১ হাজার ১০৮ মেট্রিকটন ইলিশ ব্যতিত অবশিষ্ট রপ্তানিকৃত সাদা মাছের ৮০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত মাছ। এর মধ্যে পাবদা, পার্শে, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, শিং, কই, টেংরা মাছ রয়েছে। এসব মাছ চাষের মাধ্যমে জাতীয় আমিষের চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে তেমনি জাতীয় আয়েও ভূমিক রাখছে জেলার মৎস্য সেক্টর।
তথ্য মতে, যশোরে ৮ হাজার ৪৩৪ মেট্রিকটন চিংড়ি উৎপাদিত হয়। প্রায় ৭ ৯ হাজার মৎস্যচাষি ও প্রায় ৪২ হাজার মৎস্যজীবী ছাড়াও জেলায় ১৭ হাজার ১৮১ জন নিবন্ধিত জেলে এই মৎস্য সেক্টরে কাজ করছে। বছরের এই সময়ে শুধু যে ভারতে মাছ রপ্তানি হয়েছে তাই-ই নয় ৫৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৫২ মার্কিন ডলার মূল্যে ৮ হাজার ৭৬৪ মেট্রিকটন মাছও আমদানি করা হয়েছে দেশের জন্যে। এক্ষেতে আমদানি মূল্যের চেয়ে রপ্তানি মূল্য বেশি হওয়ায় কার্যত দেশের আর্থিক সুফল অর্জিত হয়েছে। জেলায় ১৭ হাজার ৩৬১ জন চিংড়ি চাষি ১৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর আয়তনের ঘেরে নিয়মিতই চিংড়ি উৎপাদন করছেন। জেলায় ১২ হাজার ৯৬৬ ঘেরে চিংড়ি ও সাদা মাছের চাষ হচ্ছে। প্রতি বছরই এ সেক্টরে নতুন নতুন জনবল নিয়োজিত হচ্ছে এবং মৎস্য সেক্টর শক্তিশালী হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবছরই ক্রমাগতভাবে যশোরে মাছের উৎপাদন ও চাষ বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে জানানো হয় গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ১৬৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সেখানে উৎপাদিত হয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ বছরে ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে।
এ সময় মৎস্য সেক্টরে জেলা জাতীয়ভাবে আর কোন কোনভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে কী কী করা যায়, বিলুপ্ত প্রায় দেশি মাছ রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে তাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য গবেষণা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক, স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান, জাকিরুল ইসলাম, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।

Lab Scan